HTML Slides

Tuesday, April 27, 2021

সাধনার নিয়ম

 

সাধনার নিয়ম


আজ আমি সাধকদের ঐসব নিয়ম বলছি যার কারণে সাধনা সফল অসফল হয় ।

কিছু সাধক তন্ত্রের প্রাথমিক নিয়ম গুলো জানে না যার ফলে সাধনা সফল হয় না ।

১. তন্ত্রের প্রথম নিয়ম হল এটা একটা গুপ্ত বিদ্যা । এইজন্য এর বিষয়ে আপনি কেবল নিজের গুরুকে ছাড়া অন্য কাউকে নিজের সাধনা বা সাধনাতে হয়ে থাকা অনুভূতি পর্যন্ত অন্য কাউকে বলা যাবে না । সে যাই কেউ হোক না কেন ।

স্বপ্নটাও পর্যন্ত অন্য কাউকে বলা যাবে না ।

যদি এমনটা করা হয় তাহলে যে অনুভূতি পাওয়া যাচ্ছিল তা বন্ধ হয়ে যাবে সাধনা খণ্ডিত বা অসফল হতে পারে এবং যদি উগ্র দেব/দেবীর সাধনা হয় তো প্রাণের ক্ষতিও হয়ে যেতে পারে ।

তাই কাউকে কিছুই বলবেন না শুধুমাত্র গুরুকে ছাড়া ।

২. দ্বিতীয় নিয়ম হল গুরুর থেকে প্রাপ্ত মন্ত্রই সিদ্ধ করার চেষ্টা করুন ।

৩. সাধনা কালে অর্থাৎ যতদিন সাধনা করা হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত ব্রহ্মচর্য রাখুন শারীরিক সম্পর্ক করবেন না ।

মানসিক ব্রহ্মচর্য ভাঙার চিন্তা করার দরকার নেই এর উপরে কারোর বশ নেই যেমন স্বপ্নদোষ ।

৪. সাধনা চলাকালীন সাধনাকক্ষে পাখা, কুলার চালাবেন না । এগুলো তীব্র শব্দ করে যার কারণে ধ্যান ভঙ্গ হয়ে যায় । তবে এসি রুমে বসতে পারেন । অথবা পাখা খুব আস্তে চালিয়ে বসুন । সব থেকে ভালো হয় পাখা, কুলার বন্ধ রাখা ।

কারন সাধনার সময় হয়ে থাকা শব্দ পাখা, কুলারের জন্য শুনতে পাওয়া যায় না ।

৫. সাধনা কক্ষের লাইট বা বাল্বও বন্ধ রাখুন । কারণ পরাশক্তি সুক্ষ্ম হয় । এইসব তীব্র প্রকাশের জন্য প্রত্যক্ষ হতে এদের সমস্যা হয় ।

৬. জপের আগে যার সাধনা করছেন তার সঙ্কল্প নেবার সময় যেই রূপ অর্থাৎ মা, বোন, স্ত্রী, বন্ধু, দাস, রক্ষক যেই রূপের করছেন তার স্পষ্ট উল্লেখ করুন ।

যাতে সেই শক্তির বুঝতে কোনো সমস্যা না হয় এবং প্রথম দিন থেকেই খোলাখুলি ভাবে অনুভূতি করাতে পারে ।

৭. জপের সময় মন মন্ত্রের দিকে দিন ঘরের মধ্যে হওয়া উল্টোপাল্টা শব্দের দিকে মন দেবেন না ।

৮. কোনো উগ্র সাধনা করলে সর্বপ্রথমে রক্ষা মন্ত্র দ্বারা নিজের চতুর্দিকে একটা সুরক্ষা চক্র বানিয়ে নিন ।

আমি সব পরী, অপ্সরা, যক্ষ, গন্ধর্ব, জ্বীনের সাধনা তে কবচ করাই না । কারোর কোনো সমস্যা হয়নি । প্রয়োজন হয় না । এইগুলি বিনা কবচেও করা যায় এগুলি সৌম্য হয় ।

ঘরের বাইরে সর্বদা কবচ করে থাকুন ।

৯. কবচ চাকু, লোহার কীল, জল ইত্যাদি দিয়ে নিজের চতুর্দিকে রক্ষা মন্ত্র পড়তে পড়তে ঘেরা বানান ।

১০. জপের পর অপরাধের জন্য ক্ষমা অবশ্যই চাইবেন ।

১১. জপের পর আসন ছেড়ে ওঠার সময় এক চামচ জল আসনের কোণাতে ফেলে ঐ জপ নিজের মাথায় অবশ্যই লাগান এতে জপ সফল হয়ে থাকে ।

১২. সাধনার সময় ভয় পাবেন না, সৌম্য শক্তি ভয়ানক রূপে আসে না ।

অপ্সরা, যক্ষ, যক্ষিণী, পরী, জ্বীন ইত্যাদি ভয়ানক রূপে আসে না এরা মানুষের রূপেই আসে, এদের সাধনা নির্ভয় হয়ে করুন ।

১৩. অপ্সরা সর্বদা প্রেমিকা রূপে সিদ্ধ করুন ।

১৪. যক্ষিণী যেই রূপে সিদ্ধ করা হয় ওই রূপে একটু সমস্যা থাকে । তবুও এরা কাউকে মারে না ভয়ঙ্কর রুপও দেখায় না । কিছু যক্ষিণী কোনোরকম কষ্ট দেয় না । অতএব নির্ভয় হয়ে সাধনা করুন ।

১৫. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যেই সাধনা সিদ্ধ হয় বা সফল হয় তা প্রথম বা দ্বিতীয় দিন প্রকৃতিতে কিছু উল্টোপাল্টা শুরু হয়ে যায়, কোনো কিছু শুনতে পাওয়া যায়, কিছু দেখতে পাওয়া যায়, কিছু না কিছু অনুভূতি হয় । যদি এমন কোনো কিছু না হয় তো সাধনা বন্ধ করে দিন কারণ সাধনা সফল হবে না ।

অনেক লম্বা যেমন ৪০ বা ৬০ দিনের সাধনাতে ৭ দিনের মধ্যে অনুভূতি হয় ।

১৬. সাধনা করার জন্য যে কক্ষ বেছে নেবেন সাধনাকাল অবধি আপনি নিজে ছাড়া দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি প্রবেশ করবে না ।

১৭. সাধনা কালে প্রয়োজনীয় শুকনো সামগ্রী সম্পূর্ণ যোগার করে বসুন ।

১৮. ফল, ফুল, মিঠাই প্রতিদিন টাটকা ব্যবহার করবেন ।

১৯. পূর্ণ শ্রদ্ধা বিশ্বাস ও একাগ্রতার সাথে সাধনা করুন এটাই সাফল্যের চাবিকাঠি ।

২০. এইসব পরাশক্তিরা প্রেমের ভাষা বোঝে এইজন্য আপনি যেই ভাষা জানেন ওই ভাষাতেই পুজা পাঠ প্রার্থনা করুন । পরাশক্তিরা সমস্ত রকমের ভাষাই জানে । এদের বাংলা, হিন্দী, সংস্কৃত বা অন্য কোনো ভাষার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই ।

২১. আর এরা মহান শক্তিশালী হয় এইজন্য এদের সাথে সম্মান ও শ্রদ্ধাসহিত কথা বলুন ।

২২. সাধনা কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নয় যে যেইরকম আপনাদের বলা হয় যদি এমনই হত তাহলে এখনও অবধি ভুত প্রেতের অস্তিত্ব বিজ্ঞান প্রমাণ করে ফেলতো ।

এটা একটা জীবিত শক্তির সাধনা যেখানে দেব/দেবী বা কোনো শক্তির আসা বা না আসা ওই শক্তি বা দেব/দেবীর উপর নির্ভর করে সে আপনার প্রতি কতটা খুশি ।

২৩. এমন কখনই হবে না যে ১১ দিন ২১ মালা জপ বিনা শ্রদ্ধা বিশ্বাসের সাথে করলেন আর অপ্সরা, দেব ইত্যাদি এসে আপনার সামনে দাঁড়িয়ে পড়বে ।

২৪. মন্ত্রের ধ্বনি জীবিত ব্যক্তির শ্রদ্ধা বিশ্বাসের সাথে জপ করার পরেই কাজ করে ।

২৫. যেই কক্ষে সাধনা করা হবে সেই কক্ষে কোনো দেব বা দেবী বা কোনো মৃত ব্যক্তির ছবি থাকা চলবে না ।

 

সুপ্রতিম তন্ত্র শক্তি সাধনা কেন্দ্র

https://supratimtantrashaktisadhanakendra.blogspot.com

দীক্ষার জন্য সম্পর্ক করুন 

Contact: 7980327001 / 9804582218

No comments:

Post a Comment

ছত্তিশগড়ি গুঞ্চি বিদ্যা: छत्तीसगढ़ी गुंची विद्या

ছত্তিশগড়ি গুঞ্চি বিদ্যা:  छत्तीसगढ़ी गुंची विद्या এখানে " সুপ্রতিম তন্ত্র শক্তি সাধনা কেন্দ্র " দ্বারা প্রদত্ত ছত্তিশগড়ি গুঞ্চ...