ধ্যান
কিভাবে করবেন এবং কেমন করে
করবেন
*ধ্যান*
ধ্যান একটি ছোট্ট শব্দ যা আমরা একদম ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি যে
ধ্যান দিয়ে পড়ো, ধ্যান দিয়ে বসো, ধ্যান দিয়ে চলো, ধ্যান দিয়ে সবকিছু করো,
কোন কিছুতে অন্যমনস্ক হলে আমাদের বলা হয় যে ধ্যান কোথায় তোমার ?
ছোট থেকেও ছোট কাজ ধ্যান ছাড়া করা যায় না ।
তো এই পূজা পাঠ সাধনা তন্ত্র আমরা কি করে মানবো যে বিনা ধ্যানেই
এই সব হয়ে যাবে ।
ধ্যানের মানে চোখ বন্ধ করে কোন চক্রতে ধ্যান লাগানো আমি বলছি না
আমি আপনাদের বলতে চাইছি আপনারা ধানকে বুঝুন যে কেবল চোখ বন্ধ করাই ধ্যান হয়না
আমাদের চারদিকে যা কিছুই হচ্ছে সবকিছুই ধ্যান দ্বারাই হচ্ছে ।
রাজস্থানে স্ত্রীরা নিজেদের মাথায় অনেক বড় বড় অনেকগুলো হাড়ি
নিয়ে খুবই স্বাভাবিক ভাবেই নৃত্য করে কিন্তু কিভাবে ?
ধ্যান দ্বারাই ।
কোন চমৎকার এই শক্তি নেই ওনাদের কাছে । স্থূল ভাবে ওই ওই
হাঁড়িগুলো কে কেউ ধরে রাখে না কিন্তু তাদের সুক্ষ রূপে লাগানো ধ্যান ওই হাঁড়ি
গুলোকে ধরে রাখে ।
ধ্যান দ্বারাই ওই হাঁড়ি গুলোকে মাথার উপর সুন্দর করে ধরে আটকে
রাখে ফলে পিছলে পড়ে যায় না ।
ওই স্ত্রীরা তাদের ধ্যানকে কেন্দ্র করে ওই সমস্ত হাঁড়িতে দিয়ে
রাখে ফলে হাঁড়ি সম্পূর্ণ স্থির হয়ে থাকে ।
জপ, সাধনা, তন্ত্রে
একে সিদ্ধি পাওয়া বলা যেতে পারে ।
আপনারা রাস্তা ঘাটে দড়ির উপর
দিয়ে ছোট ছোট ৭/৮ বছর বয়সের বাচ্চাদের হাঁটাচলা দৌড় ঝাপ খেলা দেখাতে দেখেছেন । তো একটু
ভাবুন যে কেমন করে একটা বাচ্চা দড়ির উপর দিয়ে কোনো রকম বাধা ছাড়াই লাফিয়ে লাফিয়ে দৌড়ে
দৌড়ে খেলা দেখাচ্ছে । উত্তর একটাই ধ্যানের মাধ্যমে ।
বাচ্চাটা অনেক ধ্যান ও অভ্যাসের
দ্বারা কয়েক মাস বা বছর দড়ির উপর দিয়ে পথ চলা অভ্যাস করেছে । যে কারণে সে বিনা বাঁধায়
চলতে পারছে ।
জপ, সাধন, তন্ত্রের ভাষাতেও ঠিক
এমনি দড়ির উপর চলার মতো সিদ্ধি প্রাপ্তি করাই বলা যায় ।
আমরাও ঠিক যেই কাজ ধ্যান দ্বারা
করি তো সেটা আমাদের সিদ্ধি প্রদান করে ফলে পরে অতি সহজেই বিনা বাঁধায় সেই কাজ আমরা
করে ফেলতে পারি ।
আমাদের সকলের চলাও এমনি হুশিয়ারি
পূর্ণ ভাবে হয় । কারোর কোনো সন্দেহ হলে দশ তলা বিল্ডিং এর রেলিং এ উঠে বাইরের দিকে
করে হাঁটুন তাহলেই বুঝতে পারবেন আমাদের ধ্যান চলার সময় কোন দিকে আছে ।
ধ্যানের মানে হল নিজের চেতনাকেও
সেই কাজের সাথে জুড়ে দেওয়া ।
যেমন সাইকেল চালানোর সময় হাত
সাইকেলের হ্যান্ডেলের থেকে সরিয়ে নিলেও ধ্যান দ্বারাই আমরা পুরো সাইকেলকে ধরে রাখি
। যেই কারণে আমরা সাইকেল থেকে পরে যাই না ।
যদি আমাদের পায়ের আঙুল থেকে ধ্যান
সরে যায় তাহলে আঙুল কেটে গেলেও আমাদের কোনো ব্যাথা বেদনা হবে না ।
কারণ সম্পূর্ণ শরীরে চেতনা আমাদের
ধ্যান দ্বারা পুরো শরীরে বিস্তার করে আছে । যেই স্থান থেকে আমরা ধ্যান সরিয়ে ফেলবো
চেতনাও কমে গিয়ে সেই স্থান থেকে সরে যাবে ।
ঠিক তেমনি যেখানে আমরা ধ্যান
লাগাবো আমাদের চেতনাও ঠিক সেই সেখানে পৌছে যাবে । অর্থাৎ সেই বস্তু বা কোনো ক্রিয়াতে
প্রাণ এসে যাবে ।
চেতনাই হল জীবন বা আমরা জীবিত
আছি যার কারণে এই স্থূল বা মৃত শরীরটাও নড়া-চড়া করে তা নাহলে সব কিছুই নির্জীব ।
এই চেতনাকেই আমরা ধ্যান দ্বারা
একাগ্র করেই চমৎকার দেখাতে পারি ।
এই চেতনাকেই প্রাণ-প্রতিষ্ঠার
সময় মূর্তি বা কোনো বস্তুর মধ্যে দিয়ে তাকে জীবিত করার চেষ্টা করা হয় ।
তো যখন আমরা মন্ত্র জপ করি আর
আমাদের ধ্যান/মন অন্য কোথাও থাকে তখন ওই মন্ত্র বেজান নির্জীব হয়ে বেকার নিস্ফল হয়ে
যায় । এই বেজান নির্জীব মন্ত্রের জপ আমরা হাজার লাখ কোটি বার করলেও মন্ত্র জাগ্রত হবে
না আমাদের যে সমস্যা বা যা প্রাপ্তি হোক বা ঈশ্বরের কৃপা লাভের জন্য হোক যাই কিছু করি
না কেন আমাদের কোনো ফল প্রাপ্ত হয় না যার মূল এবং মূখ্য কারণটাই এটা হয় ।
মন্ত্র জপের সময় যদি আমরা মন্ত্রের
দিকে ধ্যান/মন দেই তো আমাদের ধ্যান/মন দেওয়াতেই মন্ত্রতে চেতনা যাওয়া শুরু হয়ে যায়
এবং ওই মন্ত্র জীবিত হয়ে কার্য করা শুরু করে দেয় যেমন ইষ্ট মন্ত্র ইষ্টের সাথে সাধকের
সম্পর্ক তৈরী করে ইষ্টের সাথে মিলিয়ে আত্মা ও পরমাত্মার মিল করিয়ে দেয় ও মন্ত্র শক্তিশালী
করে দেয়, কাউকে বন্ধন করা হলে তাকে বেঁধে দেয়, রক্ষা করার মন্ত্র তাকে রক্ষা প্রদান
করে, বশীকরন মন্ত্র হলে বশীভূত করে দেয়, মারণ মন্ত্র হলে মেরে ফেলার কার্য করে । যেমন
মন্ত্র তেমন কাজ করে ।
মন্ত্র জপের সময় আমরা যখনই মন্ত্রের
দিকে ধ্যান/মন দেই তখন মন্ত্র জাগ্রত হওয়া শুরু হয়ে যায় । যদি আমরা পূর্ণ একাগ্রতার
সাথে পুরো ধ্যান/মন মন্ত্রতেই লাগিয়ে দেই তো মুখ থেকে বের হওয়া ওই মন্ত্র এই বিশ্ব
ব্রহ্মাণ্ডে ঘুরতে থাকবে এবং ওই দেবী/দেবতাকে আপনার সামনে নিয়ে এসে দাঁড় করিয়ে দেবে
যেই মন্ত্রের জপ আপনি করছেন ।
এখন যদি এই ধ্যানের সাথে সাথে
দেবী/দেবতার প্রতি প্রেম, শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস থাকে তো কিছু বলার অপেক্ষাই রাখে না কারণ
সব থেকে তো অধিক শক্তিশালী ওই দেবী/দেবতার প্রতি প্রেমের বিচার মনোভাব, শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস
হয় ।
আজ আমাদের এই চেতনাই বিচারের
রূপে নষ্ট হতে থাকে যা আমরা হামেশাই করতে থাকি ।
তাই ওই বিচারকে আটকানো এবং যে
শক্তি বিচার দ্বারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাকে কোনো না কোনো কাজে আমাদের লাগানো উচিত ।
সয়া লাখ ওই সময়ের সংখ্যা ছিল
যে এত সংখ্যক হয়াত পরে ওই সময়ের সাধক মন্ত্রতে চেতনা ভরিয়ে তাকে চৈতন্য করে ফেলতো আর
সিদ্ধি প্রাপ্ত করে নিত । এই নিয়ম আজও আছে কিন্তু এখানে বিষয় টা হল ধ্যানের ।
ধ্যান বিষয়টা হল একে যেখানে লাগিয়ে
দেওয়া যায় সেটাই জাগ্রত হয়ে যায় চৈতন্য হয়ে যায় সেটা মন্ত্র হোক বা শরীর বা যেকোনো
বস্তুই হোক ।
এখন এটা আপনার উপর নির্ভর করছে
আপনি আপনার এই ধ্যান কোথায় কিসে লাগাবেন ।
পড়ার জন্য হলে পড়তে থাকবেন,
কিছু করার জন্য হলে করতে থাকবেন,
সাইকেল চালানোর জন্য হলে চালাতে
থাকবেন,
তর্ক করতে লাগালে তর্কশীল হয়ে
উঠবেন,
গাওয়ার জন্য হলে গায়ক হয়ে উঠবেন,
কোনো কেন্দ্রতে তাকে জাগ্রত করতে
লাগালে ওই কেন্দ্র চৈতন্য হয়ে জাগ্রত হয়ে উঠবে ,
মন্ত্রতে লাগালে মন্ত্র জাগ্রত
হওয়ার সাথে সাথে কার্য করতে শুরু করবে এবং সেই মন্ত্রের দেবী/দেবতাতে লাগালে দেব/দেবী
জাগ্রত হয়ে প্রত্যক্ষীকরণ হয়ে যাবে ।
যন্ত্রতে লাগালে যন্ত্র চৈতন্য
হয়ে কার্য করতে থাকবে ।
সুপ্রতিম তন্ত্র শক্তি সাধনা কেন্দ্র
https://supratimtantrashaktisadhanakendra.blogspot.com
দীক্ষার জন্য সম্পর্ক করুন ।
Contact: 7980327001 / 9804582218

