HTML Slides

Monday, February 28, 2022

শিবরাত্রি পূজা পদ্ধতি

 

শিবরাত্রি পূজা পদ্ধতি

 

সকালে স্নান সেরে শিবের পূজা করুন, পঞ্চোপচার পূজা করুন ।

তারপর শিবরাত্রিতে উপবাস ও ব্রত করার সংকল্প নিন ।

সংকল্পতে স্পষ্টভাবে বলুন, যে ব্রত জলাহার, ফলাহার বা নিরাহার যেমন প্রয়োজন তেমন হয়ে করবেন ।

সারাদিন ভজন গাইতে থাকুন ও *ওঁ নমঃ শিবায়* জপ করতে থাকুন ।

সন্ধ্যায় আবার শিবের পঞ্চোপচার পূজা করুন ।

প্রথম প্রহর

প্রথম প্রহরে দুধ দিয়ে স্নান করাতে হবে এই মন্ত্র বলে- "ওঁ নমঃ শিবায়, ওঁ হৌং ঈশানায় নমঃ" অথবা *ইদং স্নানীয়ং দুগ্ধং ওঁ হৌং ঈশানায় নমঃ* । এরপর গঙ্গাজলে স্নান করাতে হবে । স্নানের মন্ত্রটি হল

*ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্।*

*উর্বারুকামিব বন্ধনান্মৃত্যোর্মুক্ষীয় মামৃতাৎ।।*

শিব-গায়ত্রী পাঠ করুন *ওঁ তৎপুরুষায় বিদ্মহে মহাদেবায় ধীমহিতন্নো রুদ্রঃ প্রচোদয়াৎ*

তারপর চন্দন, চাল, কালো তিল, পদ্ম এবং কনের ফুল দিয়ে ভগবান শিবের পূজা করুন ।

*ওম্‌ ভবায় নমঃ*

*ওম্‌ শর্বায় নমঃ*

*ওম্‌ রুদ্রায় নমঃ*

*ওম্‌ পশুপতায় নমঃ*

*ওম্‌ উগ্রায় নমঃ*

*ওম্‌ মহানায় নমঃ*

*ওম্‌ ভীমায় নমঃ*                                                      

*ওম্‌ ঈশানায় নমঃ*

এই আটটি নাম জপ করুন

নৈবেদ্যতে খাবার বা ভোগ অর্পিত করুন

নারকেল ও পান দিয়ে অর্ঘ্য নিবেদন করুন । অর্ঘ্য মন্ত্র- *ওঁ শিবরাত্রি ব্রতং দেব পূজাজপপরায়ণঃ। করোমি বিধিবদ্দত্তং গৃহাণার্ঘ্যং মহেশ্বর*

*ওম্‌ নমঃ শিবায়* মন্ত্র জপ করুন


শিবের পঞ্চোপচার পূজা করুন।

দ্বিতীয় প্রহর

দ্বিতীয় প্রহরে দধি দিয়ে স্নান করাতে হবে এই মন্ত্র বলে- "ওঁ নমঃ শিবায়, ওঁ হৌং অঘোরায় নমঃ" " অথবা *ইদং স্নানীয়ং দধি ওঁ হৌং অঘোরায় নমঃ* । এরপর গঙ্গাজলে স্নান করাতে হবে । স্নানের মন্ত্রটি হল

*ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্।*

*উর্বারুকামিব বন্ধনান্মৃত্যোর্মুক্ষীয় মামৃতাৎ।।*

শিব-গায়ত্রী পাঠ করুন *ওঁ তৎপুরুষায় বিদ্মহে মহাদেবায় ধীমহিতন্নো রুদ্রঃ প্রচোদয়াৎ*

তারপর তিল, পদ্ম ফুল, বিল্বপত্রের সাহায্যে শিবের পূজা করুন।

ক্ষীরের নৈবেদ্য প্রদান করুন ।

বিজোড় লেবু দিয়ে অর্ঘ্য নিবেদন করুন । অর্ঘ্য মন্ত্র- *ওঁ নমঃ শিবায় শান্তায় সর্বপাপহরায় চ। শিবরাত্রৌ দদামর্ঘ্যং প্রদীদ উমায় সহ*

প্রথম প্রহরের তুলনায় *ওম্‌ নমঃ শিবায়* মন্ত্র দ্বিগুণ জপ করুন।


শিবের পঞ্চোপচার পূজা করুন।

তৃতীয় প্রহর

তৃতীয় প্রহরে ঘি দিয়ে স্নান করাতে হবে এই মন্ত্র বলে- "ওঁ নমঃ শিবায়, ওঁ হৌং বামদেবায় নমঃ" অথবা *ইদং স্নানীয়ং ঘৃতং ওঁ হৌং বামদেবায় নমঃ* । এরপর গঙ্গাজলে স্নান করাতে হবে । স্নানের মন্ত্রটি হল

*ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্।*

*উর্বারুকামিব বন্ধনান্মৃত্যোর্মুক্ষীয় মামৃতাৎ।।*

শিব-গায়ত্রী পাঠ করুন *ওঁ তৎপুরুষায় বিদ্মহে মহাদেবায় ধীমহিতন্নো রুদ্রঃ প্রচোদয়াৎ*

তারপর গম, আকন্দ ফুল, পদ্মফুল, বেলপাতা, তিল দিয়ে শিবকে পুনরায় পূজা করুন।

পুই য়ের নৈবেদ্য শাক প্রদান করুন ।

কর্পূর দিয়ে আরতি করুন ।

ডালিম ফল দিয়ে অর্ঘ্য নিবেদন করুন । অর্ঘ্য মন্ত্র- *ওঁ দুঃখ দারিদ্র্য শোকেন দগ্ধোহহং পার্বতীপ্রিয়। শিবরাত্রৌ দদাম্যর্ঘ্যং উমাকান্ত গৃহাণ মে*

দ্বিতীয় প্রহরের তুলনায় *ওম্‌ নমঃ শিবায়* মন্ত্র দ্বিগুণ জপ করুন।


শিবের পঞ্চোপচার পূজা করুন।

চতুর্থ প্রহর

চতুর্থ প্রহরে মধু দিয়ে স্নান করাতে হবে এই মন্ত্র বলে- "ওঁ নমঃ শিবায়, ওঁ হৌং সদ্যোজাতায় নমঃ" অথবা *ইদং স্নানীয়ং মধু ওঁ হৌং সদ্যোজাতায় নমঃ* । এরপর গঙ্গাজলে স্নান করাতে হবে । স্নানের মন্ত্রটি হল

*ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্।*

*উর্বারুকামিব বন্ধনান্মৃত্যোর্মুক্ষীয় মামৃতাৎ।।*

শিব-গায়ত্রী পাঠ করুন *ওঁ তৎপুরুষায় বিদ্মহে মহাদেবায় ধীমহিতন্নো রুদ্রঃ প্রচোদয়াৎ*

তারপর মাসকলাই এর ডাল, সপ্ত ধান্য, ধুতরা ফুল দিয়ে ভগবান শিবের পূজা করুন।

মাসকলাই এর ডাল বড় মিষ্টি নিবেদন করুন

কলা দিয়ে অর্ঘ্য নিবেদন করুন । অর্ঘ্য মন্ত্র- *ওঁ ময়া কৃতান্যনেকানি পাপানি হর শঙ্করঃ। শিবরাত্রৌ দদাম্যর্ঘ্যং উমাকান্ত গৃহাণ মে*

তৃতীয় প্রহরের তুলনায় *ওম্‌ নমঃ শিবায়* মন্ত্র দ্বিগুণ জপ করুন।                     

তারপর সকাল পর্যন্ত জপ করতে থাকুন ।

 

শিবরাত্রিতে শিবপূজার পুষ্পাঞ্জলি

১) *ওঁ শিবেহতি চন্দ্রচূড়েহতি শঙ্করহতি হরেহতি চ*

*পার্বতী প্রাননাথেহতি বদ্ জিহ্বে নিরন্তরম্ ।।*

*এষ পুষ্পাঞ্জলি ওঁ হৌং শিবায় নমঃ*


২) *ওঁ নমস্তে ভগবান রুদ্র ভাস্করামিত তেজসে*

*নমো ভবায় রুদ্রায় রসায়ান্মুময়ায় চ ।।*

*এষ পুষ্পাঞ্জলি ওঁ হৌং শিবায় নমঃ*


৩) *ওঁ মন্ত্রনাক্ষর হীনেন পুষ্পেণ বিফলেন চ*

*পূজিতোহসি মহাদেব তৎসর্বং ক্ষম্যতাং মম।।*

*এষ পুষ্পাঞ্জলি ওঁ হৌং শিবায় নমঃ*


৪) *ওঁ শর্বায় ক্ষিতিরুপায় সদাসুরভিনে নমঃ*

*পশূনাং পতয়ে তুভ্যং পাবকামিত তেজসে ।।*

*এষ পুষ্পাঞ্জলি ওঁ হৌং শিবায় নমঃ*


৫) *ওঁ অলিঙ্গ লিঙ্গ রুপায় রুপাতীতায় তে নমঃ*

*ত্বং মাতা সর্বলোকানাং ত্বমেব জগৎপিতাঃ ।।*

*এষ পুষ্পাঞ্জলি ওঁ হৌং শিবায় নমঃ*


সকালে আবার শিবের পূজা করুন

এবং পূজা বিসর্জন করুন ।

 

যে সমস্ত সাধক শিবলিঙ্গে পূজা করেন তাদের প্রত্যেক পূজায় দুধ, দই, ঘি, গঙ্গাজল, মাখন, আখের রস, জল, মধু ইত্যাদি দিয়ে শিবলিঙ্গকে স্নান করা উচিত বা যা কিছু পাওয়া যায় তাই দিয়ে করান।

পূজায় কোনো উপকরণ না পাওয়া গেলে যা পাওয়া যায় তাই দিয়ে পূজা করুন।

প্রথম প্রহরে ততবার জপ করতে পারেন যতটা চতুর্থ প্রহরে আট গুণ জপ হয় ।

যদি কোন ইচ্ছার জন্য পূজা করতে চান তবে আপনার সংকল্পে স্পষ্টভাবে বলুন, শিবের কৃপায় সেই ইচ্ছা শীঘ্রই পূরণ হবে।

প্রতিটি প্রহরে ধূপ দীপ দিতে হবে ।

পরিবারের সঙ্গে শিবরাত্রির পুজো করুন

স্ত্রীর সাথে কাজ করলে ইচ্ছা অবশ্যই পূরণ হয়।


সুপ্রতিম তন্ত্র শক্তি সাধনা কেন্দ্র

https://supratimtantrashaktisadhanakendra.blogspot.com

দীক্ষার জন্য সম্পর্ক করুন 

Contact: 7980327001 / 9804582218

Thursday, February 17, 2022

জপ

জপ


*শাস্ত্রে আছে " জপাত: সিদ্ধি " - অর্থাৎ জপ দ্বারা সিদ্ধিলাভ হয়। ভগবানের কোনো নাম মন্ত্র বা গুরু মন্ত্র অনবরত বিভিন্ন ভাবে বা বিভিন্ন পদ্ধতিতে করার নাম জপ।

*শাস্ত্রানুসারে জপ ১১ প্রকারের পদ্ধতি দ্বারা করা যায়।

১.কায়িক জপ

২. বাচিক জপ

৩. উপাংশু জপ

৪. প্রাণীক জপ

৫. হার্দিক জপ

৬. মানসিক জপ

৭. ক্রিয়া জপ

৮. সুষুম্না জপ

৯. চক্র জপ

১০. অজপা জপ

১১. পশান্তি জপ

*প্রতিটি জপ পদ্ধতি পরস্পরের থেকে উন্নত। যেমন - কায়িক থেকে বাচিক , আবার বাচিক থেকে উপাংশু উন্নত - এই ভাবে প্রতিটি জপ পদ্ধতি পরস্পরের থেকে উন্নত। পশান্তি জপ পদ্ধতি পর্যন্ত একবার করতে পারলে জপ সাধনায় পূর্ণ সিদ্ধিলাভ হয় এবং শাস্ত্রের " জপাত: সিদ্ধি " কথাটি পূর্ণত্ব প্রাপ্ত হয়।

১. কায়িক জপ :

কায়িক জপ শব্দের অর্থ হলো - শারীরিক পরিশ্রম এর দ্বারা যে জপ করা হয় তাকে কায়িক জপ বলে। যেমন:- খোল-করতাল নিয়ে নাচতে নাচতে বা হেলে দুলে যে ভগবানের অনবরত নাম করা রুপি জপ করাকে কায়িক জপ বলে।

২. বাচিক জপ :

বাচিক জপ শব্দের অর্থ হলো- এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে বসে অনবরত উচ্চারণ করে যে জপ করা হয় তাকে বাচিক জপ বলে।

৩. উপাংশু_জপ :

উপাংশু জপ শব্দের অর্থ হলো- এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে শুধু নিজে শুনতে পাবে কিন্তু পাশে বসে থাকলেও কেও শুনতে পাবে না , এই রকম ভাবে অনবরত উচ্চারণ করে যে জপ করা হয় তাকে উপাংশু জপ বলে।

৪. প্রাণীক_জপ:

প্রাণীক জপ শব্দের অর্থ হলো - শাস্ত্রে কোনো কোনো জায়গায় শ্বাস কে প্রাণ বলা হয়েছে। এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে জিভকে পূর্ণ রূপে স্থির রেখে শুধু শ্বাস- প্রশ্বাস এর দ্বারা জপ করাকে প্রাণীক জপ বলে।

৫. হার্দিক_জপ:

হার্দিক জপ শব্দের অর্থ হলো - এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে জিভকে পূর্ণ রূপে স্থির রেখে শুধু , নিজের হৃদ-স্পন্দন শুনে ( কোনো প্রকারের যন্ত্রের সাহায্য না নিয়ে ), সেই নিজের হৃদ-স্পন্দন এর গতিতে যে জপ করা হয় তাকে হার্দিক জপ বলে।

৬. মানসিক_জপ :

মানসিক জপ শব্দের অর্থ হলো- এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে শরীর ও জিভকে পূর্ণ রূপে স্থির রেখে শুধু নিজের স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে যে গতিমান মন ( কোনো প্রকারের যন্ত্রের সাহায্য না নিয়ে ) -সেই মনের গতির সংগে জপ করাকে মানসিক জপ বলে ।

৭. ক্রিয়া_জপ :

ক্রিয়া জপ শব্দের অর্থ হলো - এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে জিভকে কপালকুহরে পূর্ণ রূপে স্থির রেখে গুরুমুখী বিদ্যা রুপি ক্রিয়া এর দ্বারা জপ করাকে ক্রিয়া জপ বলে।

৮. সুষুম্না_জপ :

সুষুম্না জপ শব্দের অর্থ হলো - এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে জিভকে কপালকুহরে পূর্ণ রূপে স্থির রেখে গুরুমুখী বিদ্যা রুপি ক্রিয়া এর দ্বারা জপ করতে করতে সুষুম্নাতে প্রবেশ করে তারপর জপ করাকে সুষুম্না জপ বলে।

৯. চক্র_জপ :

চক্র জপ শব্দের অর্থ হলো - এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে জিভকে রাজিকাতে পূর্ণ রূপে স্থির রেখে গুরুমুখী বিদয়া রুপি ক্রিয়া এর দ্বারা জপ করতে করতে সুষুম্নাতে প্রবেশ করে তারপর সুষুম্নাতে প্রবেশ অবস্থায় থেকে প্রতিটি চক্রে জপ করার নাম চক্র জপ।

১০. অজপা_জপ :

অজপা জপ শব্দের অর্থ হলো - এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে জিভকে রাজিকাতে পূর্ণ রূপে স্থির রেখে গুরুমুখী বিদ্যা রুপি ক্রিয়া এর দ্বারা জপ করতে করতে সুষুম্নাতে প্রবেশ করে তারপর সুষুম্নাতে প্রবেশ অবস্থায় থেকে প্রতিটি চক্রে জপ করতে করতে কেবলি কুম্ভক এর দ্বারা অনাহত দিব্য ধ্বনির প্রকাশ হয় গুরুমন্ত্র আপনা আপনি সেই অনাহত দিব্য ধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে জপ হতে থাকে -তাকেই অজপা জপ বলে।

১১. পশান্তি_জপ :

পশান্তি জপ শব্দের অর্থ হলো - এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে জিভকে রাজিকাতে পূর্ণ রূপে স্থির রেখে গুরুমুখী বিদ্যা রূপী ক্রিয়া এর দ্বারা জপ করতে করতে সুষুম্নাতে প্রবেশ করে তারপর সুষুম্নাতে প্রবেশ অবস্থায় থেকে প্রতিটি চক্রে জপ করতে করতে কেবলই কুম্ভক এর দ্বারা অনাহত দিব্য ধ্বনির প্রকাশ হয় গুরুমন্ত্র আপনা আপনি সেই অনাহত দিব্য ধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে অজপা জপ এর মন্ত্র ধ্বনি শুনতে শুনতে সাধক সমাধি অবস্থায় উপনীত হয়। আর তখনি পশান্তি দিব্য ধ্বনির মধ্যে ব্রহ্ম জ্যোতির প্রকাশ হয় - আর সেই ব্রহ্ম জ্যোতির মধ্যে মন্ত্রের অর্থ- গায়েত্রীর দর্শন হয় আর সেই সঙ্গে সেই গুরুমন্ত্র রূপী ইষ্টদেব এর সাক্ষাৎ দর্শন হয়ে সাধক পূর্ণ মন্ত্র সিদ্ধি লাভ করে - একেই শাস্ত্রে পশান্তি জপ বলেছে, এটি সিদ্ধ হলে বলা হয় যে- জপের দ্বারা পূর্ণ সিদ্ধিলাভ -এটিই " জপাত: সিদ্ধি " অবস্থা।

* জপধ্যান ও দীক্ষার প্রসঙ্গে শিষ্যের শুভ সংস্কার না থাকলে গুরুর শত চেষ্টা সত্ত্বেও তার অন্তর্নিহিত শক্তি জাগরিত ও কার্যক্ষম হয় না। সেই শুভ সংস্কারের সাথে প্রয়ােজন হয় শিষ্যের স্বতঃপ্রবৃত্ত সহযােগিতা।

জপের জন্য সাধারণত বীজমন্ত্রই প্রশস্ত। অন্যান্য দীর্ঘতর মন্ত্র যেমন মূলমন্ত্র, গায়ত্রী মন্ত্র ইত্যাদি জপেরও বিধি আছে। তবে সেগুলি পরিশেষে বীজেই গিয়ে পর্যবসিত হয়; কারণ সত্তার স্পন্দন ক্রমশ সূক্ষ্ম হতে সূক্ষ্মতর আধারকে আশ্রয় করতে চায়।

বিরাট বটগাছের শাখাপ্রশাখা পল্লবাদি ক্রমশ গুটিয়ে বটবীজে রূপান্তরিত হয় - যার মধ্যে গোটা বটগাছটি সূক্ষ্মভাবে বিদ্যমান। পাতা বা শাখার মধ্যে বৃক্ষের অংশবিশেষকে বড় জোর লাভ করা যায়, কিন্তু বীজের মধ্যে বৃক্ষটিকে অখন্ড অথচ হ্রস্বতমরূপে ধরা যায়। তাই বীজ বা বীজমন্ত্রের এত মাহাত্ম্য বা মর্যাদা। এটি অভিব্যক্তির highly condensed form - সর্ব্বাধিক ঘনীভূত রূপ। যথাযথ সাধনা করলে ঐ বীজমাত্রই ক্রমশঃ ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে নানা দীর্ঘতর মন্ত্রে, স্তোত্রে এবং পরিশেষে তা ইষ্টের মূর্তি পরিগ্রহ করে।

বীজমন্ত্র ক্রমশ প্রণব মন্ত্রে গিয়ে মিলিত হন; যার জন্য প্রণব মন্ত্রকে অখন্ড বা মহামিলনের মন্ত্র বলা হয়। ঐং, শ্রীং, রাং, হুং, ক্লীং ইত্যাদি বীজমন্ত্র অব্যক্তে লীন হবার পূর্বক্ষণে ওঙ্কারমন্ত্রে গিয়ে পর্যবসিত হন। ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলি ক্রমশ বিলীন হয়ে গিয়ে অ, উ, ম - স্বরূপিনী নাদধ্বনিই সমুত্থিত হতে থাকে। অভিব্যক্তির প্রথম ফুট্ হলো এই ওঙ্কার মন্ত্র - যা সর্ব্ববীজমন্ত্র।

দ্বিতীয় পর্যায়ে আমরা বিবিধ দেবদেবীর খন্ডবীজগুলি লাভ করি। একটি বীজকে (যেমন ছোলার বীজ) ধীরে ধীরে যথানিয়মে পরিচর্য্যা করলে সে যেমন অঙ্কুরিত, পল্লবিত, পুষ্পিত এবং ফল-সমন্বিত হয়, তেমনি বীজমন্ত্রের যথাযথ সাধনা আমাদিগকে সংশ্লিষ্ট ইষ্টদেবের সাক্ষাৎকার ঘটায়, তাঁর কৃপালাভ হয়। জপসাধনা মূলত এই বীজমন্ত্রকেই আশ্রয় করে এগিয়ে চলে। কথাটি এই, বীজটি সম্প্রসারিত হতে হতে এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের রূপধারণ করেছে, আবার এই বিশ্বব্রহ্মান্ড গোটাতে গোটাতে শুধুমাত্র অণুপরিমাণ বীজের আকার ধারণ করে।

বীজমন্ত্র হল এক একটি তত্ত্ব বা দেবভাবের সংগুপ্ত প্রতীক। একাক্ষর ধ্বনির মধ্য দিয়ে প্রতীক বা symbol-এর আকারে এই বীজমন্ত্র সাধারণত অভিব্যক্ত। উচ্চতর গণিতে যেমন বিবিধ ভাব-সংকেত বোঝাতে গ্রীক বর্ণমালার সিগমা, ল্যাম্বডা, পাই ইত্যাদি প্রতীক ব্যবহৃত হয়, সাধনক্ষেত্রেও বীজমন্ত্রের ব্যবহার অনেকটা সেরকম - অতি সংক্ষিপ্ত অথচ ভাবগর্ভ। দেবতা বা তত্ত্ব অনুসারে কয়েকটি বীজ এখানে দৃষ্টান্তরূপে উল্লেখিত হল -

১. ব্রহ্মবীজ - ওঁ

২. মায়াবীজ - হ্রীং

৩. শক্তিবীজ বা কালীবীজ - ক্রীং

৪. কামবীজ বা কৃষ্ণবীজ - ক্লীং

৫. শ্রীবীজ বা রমা বীজ - শ্রীং

৬. বাগবীজ - ঐং

৭. ইন্দ্রবীজ বা পৃথিবী বীজ - লং

৮. বায়ুবীজ - যং

৯.বহ্নিবীজ - রং

১০. চন্দ্রবীজ - ঠং

১১. বরুণ বীজ - বং

১২. দুর্গাবীজ - দুং

১৩. গণেশবীজ - গং

১৪.কূর্চ্চবীজ - হূং

১৫.বিম্ববীজ - ঠিং

১৬. রামবীজ - রাং

১৭. তার্ত্তীয় বীজ - হেসৌঃ

১৮. নৃসিংহবীজ - ক্ষ্রৌং

১৯. শিব বীজ - হৌং

২০.স্ত্রীবীজ - স্ত্রীং

২১. আকাশবীজ - হং

২২. সূর্য্যবীজ - হ্রাং হ্রীং সঃ

২৩. সীতাবীজ - সাং

২৪. শ্রীকন্ঠবীজ - অঃ

২৫. বর্ম্মবীজ - হুং

২৬. পরাবীজ - সৌঃ

২৭. অঙ্কুশবীজ - ক্রোং

২৮. ব্রহ্মাবীজ - কং

২৯. হংসবীজ - হংসঃ

৩০. ত্রিপুরাবালাবীজ - ঐং ক্লীং সৌঃ


সুপ্রতিম তন্ত্র শক্তি সাধনা কেন্দ্র

https://supratimtantrashaktisadhanakendra.blogspot.com

দীক্ষার জন্য সম্পর্ক করুন 

Contact: 7980327001 / 9804582218

Sunday, February 13, 2022

সদ্‌গুরু কে ??? সদ্‌গুরু কে চেনার উপায় বা গুণ

সদ্‌গুরু

 

*সদ্‌গুরুর সঙ্গে শিষ্যের নিকটতম সম্বন্ধ। হাজার হাজার মাইল দূরেও যদি শিষ্যের কিছু বিপদ ঘটে, যথার্থ সদ্‌গুরু হলে তিনি সহজেই সঙ্গে সঙ্গে তা জানতে পারবেন । শিষ্যের দেহ সদ্‌গুরুর সাধন মন্দির, তিনি শিষ্যের জন্য ক্রিয়া করেন, এটি গভীর উপলব্ধির কথা। দীক্ষালাভান্তে শিষ্যের কোন সংশয় থাকতে পারে না। সদ্‌গুরু ও শিষ্য উভয় উভয়কে চিনতে পারেন।


*দীক্ষালাভের পূর্বে সদ্‌গুরু চেনার উপায়ঃ


১. সাপুড়ের সন্নিধানে, তার ঝুলিতে যে সমস্ত বিষঘ্ন লতাপাতা মূল থাকে, তার গন্ধ প্রভাবে বিষধর সর্প যেমন বশীভুত ও শান্ত হয়, তেমনি সদ্‌গুরুর সন্নিধানে উপবিষ্ট হলে মন যতই চঞ্চল, বিষন্ন চিন্তাগ্রস্ত, বিরক্ত, বিক্ষিপ্ত থাকুক না কেন সদ্‌গুরুর দেহ-নিংসৃত অদৃশ্য দিব্য জ্যোতিঃকণা এবং সুগন্ধে মন শান্ত ও স্থির হতে বাধ্য। সদ্‌গুরু শান্তিদাতা।


২. জলের যেমন নিজস্ব কোন আকার নেই, যে পাত্রে থাকে তার আকার ধারণ করে, তদ্রূপ সদগুরুর চিত্তবৃত্তি এবং মনোনাশ ঘটে বলে তার নিজস্ব কোন ভাবের লহর খেলে না। যেমন অতি সাধারণ ভাবে থাকেন চলেন ও মেশেন। নিজেকে আত্মগোপন করে রাখেন। যেমন ভাবে উপস্থিত হবে লোকটির কর্ম অনুযায়ী তাঁর মধ্যে তদনুরূপ ভাব ও ভাষার প্রকাশ ঘটবে। প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে ভিন্ন রুপে তিনি প্রকাশ পান। ফলে সদগুরুরূপী আধারটির মধ্যে আকার, প্রকার, আচরণ, বৈখরীতে ক্ষণে ক্ষণে পটপরিবর্তন ঘটতে পারে। তিনি কখনও রুদ্ররূপ কখনও শান্ত প্রসন্ন মূর্তি। অত্যন্ত স্থূল ও দুনিয়াদারীর আলোচনাতেও তিনি যেমন পটু তেমনি শাস্ত্রের দুরাবগাহ তত্ত্বে তাঁর স্বচ্ছন্দে বিচরণ করবার ক্ষমতা ক্ষণে ক্ষণে পরিলক্ষিত হবে। ধৈর্য ধরে কিছুদিন নিরীক্ষণ করলেই এই লক্ষণটি ধরা যায়।


৩. একই সময়ে বিভিন্ন লোক সদ্‌গুরুর স্থূলদেহের ফটো তুললে বিভিন্ন লোকের পৃথক পৃথক ভাবানুসারে পৃথক পৃথক ফটো উঠবে। যিনি সদ্‌গুরু, তিনি অহরহ দিব্য ভাবলোকে বিচরণ করেন। স্তর ও মণ্ডল ভেদে বিচ্ছুরিত জ্যোতিছটায় তাঁর দেহে ক্ষণে ক্ষণে পরিণাম ঘটে। স্থূল চোখে ধরা না পড়লেও শক্তিশালী ক্যামারেতে তার ছায়াপাত ঘটে। বস্তুতঃ সদ্‌গুরুর একটি ফটো অন্যটি হতে সর্বদাই পৃথক এবং বৈশিষ্ট্যব্যঞ্জক।


৪. যং লব্ধা পুমান্‌ সিদ্ধো ভবতি, অমৃতী ভবতি, তৃপ্তো ভবতি, যৎ প্রাপ্য ন কিঞ্চিৎ বাঞ্ছতি, ন শোচতি, ন দ্বেষ্টি, ন রমতে, নোৎসাহী ভবতি তদেব ব্রহ্মঃ। ব্রহ্মকে জানলে সমুদয় তত্ত্বই জানা হয়। সদ্‌গুরুর ব্রহ্মসিদ্ধির ফলে জ্ঞানসিদ্ধি হয়। তাই যিনি সদ্‌গুরু তিনি স্থূল, সূক্ষ্ম, কারণ কারণাতীত জগতের তাবৎ প্রশ্নের উত্তরদানে সমর্থ।


৫. সদ্‌গুরুর সম্মুখে বিভিন্ন লোক একই প্রশ্ন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে উত্থাপন করলে প্রত্যেকের মস্তিষ্ককোষের পৃথক পৃথক স্পন্দনানুসুরে তিনি একই প্রশ্নের ভিন্ন ভিন্ন উত্তরদানে সমর্থ। প্রত্যেকটি উত্তরই শাস্ত্রসম্মত, যুক্তি-সিদ্ধ এবং অনুভব সিদ্ধ হবে।


৬. এমন কি যদি কোন বিজ্ঞানী বা বিজ্ঞানের গবেষক ছাত্র কোন জটিলতম সূত্রের উদ্ভাবনের জন্য সদ্‌গুরুকে প্রশ্ন করেন তিনি ইচ্ছা করলে সেই জিজ্ঞাসুর প্রজ্ঞাক্ষেত্রে এমন এক চেতনার উন্মেষ বা এমন এক চিৎ স্পন্দনের উদ্ভব ঘটান যে সেই ব্যক্তির তদ্বিষয়ক জ্ঞান স্বতঃই উপজিত হয়। যা তার অজ্ঞাত ছিল, তা আর অজ্ঞাত থাকে না। বুদ্ধি ক্ষেত্রে তত্ত্বটির আকস্মিক স্ফুরণ ঘটে। এই অভাবনীয় ঘটনার কারণ- সদ্‌গুরু সমাধিবান, তিনিই প্রকৃত সমাধানমূলক জীবন্ত বিগ্রহ।


৭. সদ্‌গুরুর নিকট বহু লোক বহু প্রশ্ন নিয়ে আসলে তিনি যে কোন একজনের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে সকলের জিজ্ঞাসার সমাধান করে দেন। পৃথকভাবে আর কাউকেও কোন প্রশ্ন করতে হয় না।


৮. জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে সদ্‌গুরুর দর্শন ঘটলে সজ্ঞানের মৃত্যু হয়। সদ্‌গুরুকে সামান্য মানুষ ভেবে কেউ যদি তাঁকে গালি দেয়, তারও সজ্ঞানে মৃত্যু হয়। এটি দিব্যৌঘ বস্তুতত্ত্বের সংক্রমণ-জনিত অবশ্যম্ভাবী শুভফল।


৯. সদ্‌গুরু চিনবার বিশিষ্ট লক্ষণ হল--- *সদ্‌গুরু কোন বিভূতি দেখান না। তাঁর বিভূতি বা যোগৈশ্বর্য তাঁর অনুগৃহীত ভক্তের মধ্যে দিয়ে প্রকট হয়। ঐ ভক্ত অবশ্যই আক্ষরিক অর্থে দীক্ষাপ্রাপ্ত হওয়া চাই । দীর্ঘকাল ভক্ত বা শিষ্যের যোগাভ্যাসের ফলে যোগৈশ্বর্য যোগীর আয়ত্তে আসে। শিষ্যের ভাব, ভাবনা, ইচ্ছা এবং বাক্যদানকে সত্য করবার জন্য সদ্‌গুরুর কটাক্ষে অলৌকিক বিভূতিগুলির প্রকাশ ঘটে।


১০. জীবনের যে কোন সঙ্কটময় মুহূর্তে যদি কেউ তাঁকে স্মরণ করে, কিংবা অনিবার্য বিপৎপাতের সম্ভাবনা দেখে সে যদি সদ্‌গুরুরূপে অনুমিত ব্যক্তিটির দোহাই দেয় তাহলে সে বিপদ নিশ্চয়ই প্রতিহত হবে। কেননা-ভক্তবাৎসল্য এবং রক্ষাকর্ত্তৃত্ব সদ্‌গুরু সত্ত্বার পরিচায়ক।


*যোগীসমাজে দশটি সূত্র সংক্ষেপে ‘দশমীয়াঁ’ নামে প্রসিদ্ধ। লক্ষণগুলির একটি বা দুটি মিললে চলবে না। সদ্‌গুরুর মধ্যে দশমীয়াঁর সমুদয় লক্ষণগুলিই বর্তমান থাকবে।

 


সুপ্রতিম তন্ত্র শক্তি সাধনা কেন্দ্র

https://supratimtantrashaktisadhanakendra.blogspot.com

দীক্ষার জন্য সম্পর্ক করুন 

Contact: 7980327001 / 9804582218

 


ছত্তিশগড়ি গুঞ্চি বিদ্যা: छत्तीसगढ़ी गुंची विद्या

ছত্তিশগড়ি গুঞ্চি বিদ্যা:  छत्तीसगढ़ी गुंची विद्या এখানে " সুপ্রতিম তন্ত্র শক্তি সাধনা কেন্দ্র " দ্বারা প্রদত্ত ছত্তিশগড়ি গুঞ্চ...