HTML Slides

Sunday, April 25, 2021

পুজা অনুষ্ঠানের বিস্তারিত পদ্ধতি


পুজা অনুষ্ঠানের বিস্তারিত পদ্ধতি


পূজা করবার সময় নিন্মলিখিত বিষয় সমুহের অনুষ্ঠান করবেন । যথা— প্রথমে আচমন, বিষ্ণুস্মরণ, সূর্য্যার্ঘ্য দান, গন্ধাদির অর্চ্চনা, গণেশাদির অর্চ্চনা, স্বস্তিবাচন, সঙ্কল্প, ঘটস্থাপন, সামান্যার্ঘ্য স্থাপন, বিশেষার্ঘ্য স্থাপনঃ, আসনশুদ্ধি, জলশুদ্ধি, করশুদ্ধি, পুষ্পশুদ্ধি, ভূতাপসারণ, দিগবন্ধন, ভূতশুদ্ধি, গুরুপঙ্‌ক্তি প্রণাম ।

 

আচমনঃ

পূর্ব বা উত্তরমুখ হয়ে বসে পূজা করতে হয়। তিনবার মন্ত্র বলে ওঁ মাধবায় নমঃ ওঁ কেশবায় নমঃ ওঁ নারায়ণায় নমঃ অথবা ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু ডান হাতে জল নিয়ে মুখে দিয়ে তারপর তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা আঙুল দিয়ে দু'বার ঠোঁট মুছিয়ে আপনার হাত ধুয়ে নিন ।

তারপর কুশি থেকে ডান হাতে জল নিয়ে *ওঁ অপবিত্রঃ পবিত্র বা সর্ব্বাবস্থাং গতোহপি বা যঃ স্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষং স বাহ্যাভ্যন্তর শুচি । ওঁ শুচি ওঁ শুচি ওঁ শুচি ।* বলে জল মাথা ও চারিদিকে ছিটিয়ে দিতে হয় ।

(যাদের দীক্ষাগ্রহন করা নেই তারা নমঃ বিষ্ণু নমঃ বিষ্ণু নমঃ বিষ্ণু বলবেন) ।

 

বিষ্ণুস্মরণঃ

মধ্যমা, বৃদ্ধাঙ্গুল ও অনামিকার সংযোগে ফুল নিয়ে বিষ্ণুস্মরণ করতে হয় ।

*ওঁ তদ্বিষ্ণো পরমং পদম্‌ সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ । দিবীব চক্ষুরাততম্‌ ।। ওঁ মাধবো মাধবো বাচি মাধবো মাধবো হৃদি । স্মরন্তি সাধবঃ সর্বে সর্বকার্য্যেষু মাধবঃ ।।

ওঁ সর্বমঙ্গল মঙ্গল্যং বরেণ্যং বরদং শুভম । নারায়ণ নমস্কৃত্য সর্বকর্মাণি কারয়েৎ ।।

তারপর ফুল নারায়ণ শিলায় অথবা তাম্রটাটে অথবা কোশাকুশিতে দিয়ে তার উপর জল দিয়ে বলতে হয় “এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ শ্রী গণেশায় নমঃ । এইভাবে ওঁ শ্রী গুরবে নমঃ । ওঁ শ্রী সূর্য্যায় নমঃ । ওঁ শ্রী বিষ্ণবে নারায়ণায় নমঃ ।ওঁ নমঃ শিবায় নমঃ । ওঁ শ্রী দূর্গায়ৈ নমঃ । ওঁ আদিত্যাদি নবগ্রহেভ্যো নমঃ । ওঁ ইন্দ্রাদি দশদিকপালেভ্যো নমঃ ।ওঁ মৎস্যাদি দশাবতারেভ্যো নমঃ ।ওঁ কাল্যাদি দশমহাবিদ্যাভ্যো নমঃ ।

ওঁ ইষ্টদেবদেবীভ্যো নমঃ । ওঁ কুলদেবদেবীভ্যো নমঃ । ওঁ সর্বেভ্যো দেবেভ্যো নমঃ । ওঁ সর্বেভ্যো দেবীভ্যো নমঃ ।

 

অর্ঘ্যঃ

গন্ধ পুষ্প, দূর্ব্বা, আতপ চাল, তিল ইত্যাদি দ্বারা সকল দেব দেবীদের অর্ঘ্য দান করা হয় ।

 

সূর্য্যার্ঘ্য দান মন্ত্রঃ

*ওঁ নমো বিবস্বতে ব্রক্ষ্মণ্‌ ভাস্বতে বিষ্ণুতেজসে । জগৎসবিত্রে শুচয়ে সবিত্রে কর্ম্মদায়িনে ।। ওঁ এহি সূর্য্য সহস্রাংশো তেজোরাশে জগৎপতে । অনুকম্পয় মাং ভক্তং গৃহাণার্ঘ্যং দিবাকরম্‌ ।।

ইদমর্ঘ্যং—ওঁ নমো ভগবতে শ্রীসূর্য্যায় নমঃ ।

 

সূর্য্য প্রণাম মন্ত্রঃ

ওঁ জবাকুসুমসঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্‌ । ধ্বান্তারিং সর্ব্বপাপঘ্নং প্রণতোহস্মি দিবাকরম্‌ ।।

ওঁ নমঃ সবিত্রে জগদেকচক্ষুষে, জগৎপ্রসূতি-স্থিতিনাশ-হেতবে । ত্রয়ীময়ায় ত্রিগুণাত্মধারিণে, বিরিঞ্চ নারায়ণ-শঙ্করাত্মনে ।।

 

ক্ষমা প্রার্থনাঃ

অনন্তর এক গণ্ডুষ জল নিয়ে নিন্মলিখিত মন্ত্র পাঠ করে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন ।

*ওঁ যদক্ষরং পরিভ্রষ্টং মাত্রাহীনঞ্চ যদ্‌ভবেৎ । পূর্ণং ভবতু তৎ সর্ব্বং ত্বৎপ্রাসাদাৎ সুরেশ্বরি* ।।

 

গন্ধাদির অর্চ্চনাঃ

প্রথমে “বং” এতেভ্যো গন্ধাদিভ্যো নমঃ—ইহা বলিয়া গন্ধাদের উপর তিনবার জলের ছিটা দেবেন ।

এর পর—এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ এতেভ্যো গন্ধাদিভ্যো নমঃ, এতদধিপতয়ে ওঁ শ্রীবিষ্ণবে নমঃ, ওঁ এতৎ সম্প্রদানেভ্যঃ পূজনীয়দেবতাভ্যো নমঃ—এইরূপভাবে গন্ধপুষ্পের দ্বারা অর্চ্চনা করবেন ।

 

গণেশাদির অর্চ্চনাঃ

“এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ গণেশায় নম, এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ শিবাদিপঞ্চদেবতাভ্যো নমঃ, এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ আদিত্যাদি নবগ্রহেভ্যো নমঃ, এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ ইন্দ্রাদি দশদিকপালেভ্যো নমঃ, এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ মৎস্যাদি দশাবতারেভ্যো নমঃ, এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ কাল্যাদি দশমহাবিদ্যাভ্যো নমঃ, এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ শ্রী গুরবে নমঃ, এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ নারায়ণায় শ্রী বিষ্ণবে নমঃ, এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ সর্বেভ্যো দেবেভ্যো নমঃ, এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ সর্বেভ্যো দেবীভ্যো নমঃ, এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ অমুকদেবতায়ৈ নমঃ । এইরূপে প্রত্যেক দেব/দেবীর পূজার আগে অবশ্যই করতে হবে ।

 

স্বস্তিবাচনঃ

চন্দন মিশ্রিত আতপ তণ্ডুল নিয়ে নিন্মলিখিত মন্ত্র পাঠ করে তিনবার তাম্রপাত্রে নিক্ষেপ করবেন ।

সামবেদীয়— ওঁ সোমং রাজানং বরুণমগ্নিমন্বারভামহে । আদিত্যং বিষ্ণুং সূর্য্যং ব্রক্ষমাণঞ্চ বৃহস্পতিম্‌ । ওঁ স্বস্তি ওঁ স্বস্তি ওঁ স্বস্তি ।।

 

সাক্ষ্যমন্ত্রঃ

ওঁ সূর্য্যঃ সোমো যমঃ কালঃ সন্ধ্যেঃ ভূতান্যহক্ষপা । পবনো দিক্‌পতির্ভূমিরাকাশং খচরামরাঃ । ব্রাক্ষ্মং শাসনমাস্থায় কল্পধ্বমিহ সন্নিধিম্‌ । ওঁ তৎসৎ আয়মারাম্ভঃ শুভায় ভবতু ।।

 

সঙ্কল্পবিধিঃ

নিত্যপূজায় সঙ্কল্পের প্রয়োজন হয় না । পূর্ব বা উত্তর মুখ করে বসে ডান হাটু মাটিতে স্পর্শ করে কুশ, তিল, হরতকী, ফুল জলপূর্ণ তাম্রপাত্র (কুশী) বামহস্তে গ্রহণ করে ডাম হাত দিয়ে ঢেকে নিন্মলিখিত মন্ত্র পাঠ করে সঙ্কল্প করবেন ।।

*বিষ্ণুঃ ওম্‌ তৎসদদ্য অমুকে মাসি অমুকে পক্ষে অমুকতিথৌ অমুকগোত্রঃ শ্রীঅমুকদেবশর্ম্মা (অমুকগোত্রস্য শ্রীঅমুক দেবশর্ম্মণঃ দাসস্য/দাসস্যী (স্ত্রী হলে দাসস্যী) অমুক ফলপ্রাপ্তি কামনায়া (শ্রীবিষ্ণুপ্রীতিকামনায়া বা) অমুককর্ম্ম (পূজনং ব্রতং বা) অহং করিষ্যামি *।

(যথাক্রমে অমুক স্থলে মাস, পক্ষ, তিথি, গোত্র এবং সঙ্কল্পকর্ত্তা/কর্ত্তীর নাম বলবেন)।

তারপর কুশীস্থিত জল ঈশান কোণে ভূমিতে ফেলে তাম্রকুণ্ডের উপর উপুড় করে নিন্মোক্ত

সঙ্কল্প সূক্ত পাঠ করবেন ।

*ওঁ দেবো বো দ্রবীণোদাঃ, পূর্ণাং বিবষ্ট্রাসিচম্‌ । উদ্বা সিঞ্চধ্ব মূপ বা পৃণধ্ব-মাদিদ্বো দেব ওহতে* ।।

 

ঘটস্থাপন বিধিঃ

শিব এবং নারায়ন পূজায় ঘটস্থাপন প্রয়োজন হয় না । তথাপি প্রতিমা বিদ্যমান থাকিলে ঘটস্থাপন অবশ্যই করতে হবে ।

প্রথমে পঞ্চগুঁড়ি দ্বারা অষ্টদল-পদ্ম অঙ্কন করে তার উপর পবিত্র মাটি এবং পঞ্চশস্য দেবেন । (পঞ্চশস্য যথা— ধান, মাসকলাই, তিল, শ্বেতসরিষা ও যব) । অষ্টদল-পদ্ম অঙ্কন করতে না পারলে এবং পঞ্চশস্যের অভাব হলে কেবল মাটির উপর ধান দেবেন । তার উপর অভগ্ন এবং সুদৃশ্য ঘট (ঘটের বক্ষস্থলে সিন্দুর দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ন অঙ্কিত করে দধি দেবেন ও গলায় আলতা দিয়ে সূতা বেঁধে দেবেন) স্থাপন করবেন । ঘটের মুখে পঞ্চপল্লব (আম্র, অশ্বত্থ, বট, পাকুড় এবং যজ্ঞডুমুর) দেবেন । উহার অভাব হলে কেবল একটি আম্রপল্লব দিলেই হবে । তার উপর একসরা আতপ চাল ও সশীষ ডাব এবং উপরে একটি গামছা দেবেন ।

 

ঘটস্থাপন মন্ত্রঃ

ভূমি স্পর্শ করে—ওঁ মহিত্রাণা মবরন্ত দ্যুক্ষং মিত্রস্যার্ঘ্যম্‌ণঃ দুরাধর্ষং বরুণস্য ।।

ধান স্পর্শ করে— ওঁ ধানাবন্তং করম্ভিণমপূপবন্তমুক্‌থিনম্‌ । ইন্দ্র প্রাতর্জুষস্ব নঃ ।।

ঘট স্পর্শ করে— ওঁ আবিশন্‌ কলশং সুতো বিশ্বা অর্ষন্নভি শ্রিয়ঃ । ইন্দুরিন্দ্রায় ধীয়তে ।।

জল স্পর্শ করে— ওঁ আ নো মিত্রাবরুণা ঘৃতৈর্গব্যূতি মুক্ষতং । মধ্বা রজাংসি শুক্রতু ।।

পল্লব স্পর্শ করে— ওঁ অয়মূর্জাবতো বৃক্ষ উর্জ্জীবফলিনী ভব । পর্ণং বনস্পতে নুত্বা নুত্বা চ সূয়তাং রয়িঃ ।।

ফল স্পর্শ করে— ওঁ ইন্দ্রং নরো নেমধিতা হবন্তে যৎ পার্য্যাযুঞ্জতে ধিয়স্তাঃ । শূরো নৃষাতা শ্রবসশ্চাকাম                             আ গোমতী ব্রজে ভজা ত্বং নঃ ।

ফুল স্পর্শ করে— ওঁ পবমান ব্যশ্নহি রশ্মিভির্বাজসা তমঃ । দধং স্তোত্রে সুবীর্য্যম্‌ ।।

সিন্দুর স্পর্শ করে— ওঁ সিন্ধোরুচ্ছ্বাসে পতয়ন্তমুক্ষণম্‌ । হিরণ্যপাবাঃ পশুমপ্সুগৃভণতে ।।

বস্ত্র স্পর্শ করে— ওঁ যুবা সুবাসাঃ পরিবীত আগাৎ স উ শ্রেয়ান্‌ ভবতি জায়মানঃ । তদ্‌ধীরাসঃ কবয় 

                        উন্নয়ন্তি সাধ্যো মনসা দেবয়ন্তঃ ।।

ঘট ধারণ করে স্থিরকরণঃ— ওঁ ত্বাবতঃপুরূবসো বয়মিন্দ্রঃ প্রণেতঃ, স্মসি স্থাতর্হরীণাম্‌ । ওঁ স্থাং স্থীং

                                          স্থিরো ভব ।।


কৃতাঞ্জলি হয়ে— ওঁ সর্ব্বতীর্থোদ্ভবং বারি সর্ব্বদেবসমন্বিতম্‌ । ইমং ঘটং সমারুহ্য তিষ্ঠ দেবগণৈঃ সহ ।।

                          (দেবীপক্ষে— সর্ব্বদেবীসমন্বিতাম্‌ । দেবীগণৈঃ সহ ।)

 

সামান্যার্ঘ্য স্থাপনঃ

ভূমিতে ত্রিকোণ মণ্ডল অঙ্কন করে তার উপর একটি গোলাকৃতি মণ্ডল অঙ্কন করবেন । এরপর তার উপরে চতুষ্কোণ মণ্ডল অঙ্কন করে সুগন্ধ ফুল অথবা চন্দন মিশ্রিত আতপতণ্ডুল নিয়ে *এতে গন্ধপুষ্পে অথবা এতে গন্ধাক্ষতে ওঁ আধারশক্তয়ে নমঃ, ওঁ পৃথিব্যৈ নমঃ, ওঁ কূর্ম্মায় নমঃ, ওঁ অনন্তায় নমঃ* বলে অর্চ্চনা করবেন ।

তারপর *অস্ত্রায় ফট্‌* মন্ত্রে কোশা প্রক্ষালন করে উক্ত মণ্ডলের উপর স্থাপন করবেন ।

তারপর ওঁ উচ্চারণ করে তিনবার জল দিয়ে কোশা পূর্ণ করবেন । তারপর কোশার অগ্রভাগে একটি অর্ঘ্য স্থাপন করে *ওঁ মং বহ্নিমণ্ডলায় দশকলাত্মনে নমঃ, ওঁ অর্কমণ্ডলায় দ্বাদশকলাত্মনে নমঃ, ওঁ উং সোমমণ্ডলায় ষোড়শকলাত্মনে নমঃ* মন্ত্রে আধারের ও অর্ঘ্যপাত্রের পূজা করবেন ।

 

জলশুদ্ধিঃ—

অনন্তর কোশাস্থিত জল বিভাগ করে গন্ধ পুষ্প এবং দূর্ব্বা তার মধ্যে দিয়ে ধেনুমুদ্রা দ্বারা অমৃতীকরন করে মৎস্যমুদ্রা দ্বারা আচ্ছাদন করে অঙ্কুশমুদ্রা দ্বারা কোশাস্থিত জলে তীর্থসকল আহবান করবেন ।

*ওঁ গঙ্গে চ যমুনে চৈব গোদাবরি সরস্বতি । নর্ম্মদে সিন্ধুকাবেরি জলেহস্মিন্‌ সন্নিধিং করু* ।।

তারপর *ওঁ* এই মন্ত্র অর্ঘ্যের উপর দশবার জপ করে সেই জলের ছিটা মস্তকে এবং পূজার উপকরণসমূহে দেবেন ।

 

বিশেষার্ঘ্য স্থাপনঃ—

নিজবামে জল দিয়ে ত্রিকোণ মণ্ডল অঙ্কন করে তার মধ্যে আধারশক্তি প্রভৃতির পূজা করে *ফট* মন্ত্রে মণ্ডলের উপর জলশঙ্খ স্থাপন করে তার অগ্রভাগে অর্ঘ্য স্থাপন করবেন ।

 

ভূতাপসারণ ও দিগ্‌বন্ধনঃ—

ডান হাতে সামান্য শ্বেতসরিষা নিয়ে *ওঁ অপসর্পন্তু তে ভূতা ভুবি সংস্থিতাঃ । যে ভূতা বিঘ্নকর্ত্তারস্তে নশ্যন্তু শিবাজ্ঞয়া* । এই মন্ত্র পাঠ করে চারিদিকে ছড়িয়ে দেবেন এবং বাম পায়ের গোড়ালি তিনবার মাটিতে আঘাত করে মাথার উপর তিনবার *ওঁ ফট্‌* মন্ত্রে হাততালি দিয়ে ভূতাপসারণ এবং দশদিকে তুড়ি দিয়ে দিয়ে দশদিক্‌ বন্ধন করবেন ।

 

ভূতশুদ্ধিঃ—

এরপরে *রং* মন্ত্র পাঠ করে নিজের চারিদিকে জলধারা দিয়ে নিজেকে বহ্নিপ্রাচীরের মধ্যবর্ত্তীতে চিন্তা করবেন । পরে একাগ্র মনে পাঠ করবেন— *ওঁ মূলশৃঙ্গাটাচ্ছিরঃ সুষুন্মা-পথেন জীবশিবং পরমশিবপদে যোজয়ামি স্বাহা । ওঁ যং লিঙ্গশরীরং শোষয় শোষয় স্বাহা ।। ওঁ রং সঙ্কোচশরীরং দহ দহ স্বাহা । ওঁ পরমশিবং সুষুন্মাপথেন মূলশৃঙ্গাটামুল্লসোল্লস জ্বল জ্বল প্রজ্বল প্রজ্বল সোহং হংসঃ স্বাহা ।।

 

শ্রীকৃষ্ণ বিষয়ে সংক্ষেপে ভূতশুদ্ধিঃ—

স্বকীয়-হৃদয়ে ধ্যায়েৎ শ্রীকৃষ্ণ চরণাম্বুজম্‌ । ভূতশুদ্ধিমিমাং প্রাহুঃ সর্ব্বাগমবিশারদাঃ ।।

অর্থাৎ আপন হৃদয়ে শ্রীকৃষ্ণের চরণপদ্ম ধ্যান করলেই তার বিষয়ে ভূতশুদ্ধি হয় ।

পূজনীয় দেব/দেবীকে মনে মনে ভাবনা করলেই সংক্ষেপে ভূতশুদ্ধি হয় ।

 

আসনশুদ্ধিঃ—

*এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ হ্রীং আধারশক্তয়ে কমলাসনায় নমঃ* । এই মন্ত্র পাঠ করে আসনের উপরে দেবেন । তারপর আসন স্পর্শ করে পাঠ করবেন— *অস্য আসন মন্ত্রস্য মেরুপৃষ্ঠঋষিঃ সুতলং ছন্দঃ কুর্ম্মোদেবতা আসনোপবেশনে বিনিয়োগঃ* । পরে কৃতাঞ্জালি হয়ে নিন্ম মন্ত্র পাঠ করবেন—*ওঁ পৃথ্বি ত্বয়া ধৃতা  লোকা দেবী ত্বং বিষ্ণুনা ধৃতা । ত্বঞ্চ ধারয় মাং নিত্যং পবিত্রং কুরুচাসনম্‌ ।।

 

গুরুপঙ্‌ক্তি প্রণামঃ—

অনন্তর হাত জোড়ে পাঠ করবেন—*(বামে) ওঁ গুরুভ্যো নমঃ, ওঁ পরম গুরুভ্যো নমঃ, ওঁ পরাপরগুরুভ্যো নমঃ, ওঁ পরমেষ্ঠি গুরুভ্যো নমঃ, (দক্ষিনে) ওঁ গণেশায় নমঃ, (উর্দ্ধে) ওঁ ব্রক্ষ্মণে নমঃ, (অধঃ) ওঁ অনন্তায় নমঃ, (মধ্যে) ওঁ অমুক দেবতায়ৈ নমঃ* ।

 

অঙ্গন্যাসঃ—

মধ্যমা, অনামিকা ও তর্জ্জনী অঙ্গুলি দ্বারা হৃদয়ে; মধ্যমা ও তর্জ্জনী দ্বারা মাথায়; অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা শিখাস্থানে; সর্ব্বাঙ্গুলি দ্বারা কবচে; তর্জ্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা এই তিনটি আঙুল দ্বারা চোখে এবং তর্জ্জনী ও মধ্যমা দ্বারা করতলে ন্যাস করতে হয় ।

অঙ্গন্যাসক্রমঃ

আং হৃদয়ে নমঃ । ঈং শিরসে স্বাহা । ঊং শিখায়ৈ বষট্‌ । ওঁ কবচায় হুং । ঔং নেত্রাভ্যাং বৌষট্‌ । (দেবতার ত্রিনেত্র হলে—*ঔং নেত্রত্রয়ায় বৌষট্‌* বলতে হয়) । অঃ করতলপৃষ্ঠাভ্যামস্ত্রায় ফট্‌ । (তর্জ্জনী ও মধ্যমা দ্বারা বাম হাতের তলদেশ বেষ্টন করে করতলধ্বনি করতে হয়) ।

 

করন্যাসঃ—

আং অঙ্গুষ্ঠাভ্যাং নমঃ (উভয় হাতের তর্জ্জনী অঙ্গুলি দ্বারা উভয় হাতের আঙুল স্পর্শ করতে হবে) ।

ঈং তর্জ্জনীভ্যাং স্বাহা (অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা উভয় হাতের তর্জ্জনী স্পর্শ করতে হবে) । এইরূপ অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা পর পর সমস্ত অঙ্গুলি স্পর্শ করতে হবে । যথা— ঊং মধ্যমাভ্যাং বষট্‌, ঐং অনামিকাভ্যাং হূং, ঔং কনিষ্ঠাভ্যাং বৌষট্‌, অঃ করতলপৃষ্ঠাভ্যামস্ত্রায় ফট্‌ । তর্জ্জনী ও মধ্যমা দ্বারা বাম হাতের তলদেশ বেষ্টন করে করতলধ্বনি করতে হয় ।

 

করশুদ্ধিঃ—

যে কোনো একটি ফুল নিয়ে *ঐং বং অস্ত্রায় ফট্‌* বলে সেটা দুই হাতে পেষণ করে বামভাগে/বামদিকে নিক্ষেপ করে জলের (গঙ্গাজলের) ছিটা দেবেন ।

 

পুষ্পশুদ্ধিঃ—

পুষ্প স্পর্শ করে নিন্ম মন্ত্র পাঠ করবেন— *ওঁ পুষ্পে পুষ্পে মহাপুষ্পে সুপুষ্পে পুষ্পসম্ভবে । পুষ্প চয়াবকীর্ণে চ হূং ফট্‌ স্বাহা* ।।

 

দ্বারদেবতাপূজাঃ—

এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ দ্বারদেবতাভ্যো নমঃ । এই বলে দ্বারদেশ এবং এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ ব্রক্ষ্মণে নমঃ, ওঁ বাস্তুপুরুষায় নমঃ । এই বলে পূজা করতে হয় ।

আবার প্রোক্ষণী পাত্রস্থ জল দিয়ে *ফট্‌* মন্ত্রে দ্বারদেশ অভ্যুক্ষণ করে দেবতারদের আহবান করতে হয় ।

*ওঁ দ্বার দেবতা/দেবী ইহাগচ্ছ ইহাগচ্ছ (দুইবার আবাহনী মুদ্রায়), ইহতিষ্ঠ ইহতিষ্ঠ (দুইবার স্থাপনী মুদ্রায়), ইহ সন্নিধেহি ইহ সন্নিধেহি (দুইবার সন্নিধাপনী মুদ্রায়) ইহা সন্নিরুদ্ধস্ব (সংরোধনী মুদ্রায়) অত্রাধিষ্ঠানং কুরু (সম্মুখীকরণ মুদ্রায়) মম পূজাং গৃহাণ (করজোড়ে বলতে হবে)* ।

 

আবাহনঃ—

*ওঁ ভূর্ভুবস্বঃ অমুক দেব/দেবী ইহাগচ্ছ ইহাগচ্ছ (দুইবার আবাহনী মুদ্রায়), ইহতিষ্ঠ ইহতিষ্ঠ (দুইবার স্থাপনী মুদ্রায়), ইহ সন্নিধেহি ইহ সন্নিধেহি (দুইবার সন্নিধাপনী মুদ্রায়) ইহা সন্নিরুদ্ধস্ব (সংরোধনী মুদ্রায়) অত্রাধিষ্ঠানং কুরু (সম্মুখীকরণ মুদ্রায়) মম পূজাং গৃহাণ (করজোড়ে বলতে হবে)* ।

 

দ্বীপ দানের মন্ত্রঃ—

ওঁ সুপ্রকাশো মহাদীপঃ সর্ব্বতস্তিমিরাপহঃ । সবাহ্যাস্তরং জ্যোতির্দীপোহয়ং প্রতিগৃহ্যতাম্‌ ।। ইতি দীপঃ ।

 

ধূপ দানের মন্ত্রঃ—

ওঁ বনস্পতিরসো দিব্যো গন্ধাঢ্যঃ সুমনোহরঃ । আঘ্রেয়ঃ সর্ব্বদেবানাং ধূপোহয়ং প্রতিগৃহ্যতাম্‌ ।। ইতি ধূপঃ ।

 

নৈবেদ্য নিবেদন মন্ত্রঃ

*ফট্‌* বলে ফুল নিয়ে বলতে হবে— *ওঁ প্রাণায় স্বাহা, ওঁ অপানায় স্বাহা, ওঁ সমানায় স্বাহা, ওঁ উদানায় স্বাহা, ওঁ ব্যানায় স্বাহা* । এরপর নৈবেদ্যর উপর ফুল ছিটিয়ে দিতে হবে ।


সুপ্রতিম তন্ত্র শক্তি সাধনা কেন্দ্র

https://supratimtantrashaktisadhanakendra.blogspot.com

দীক্ষার জন্য সম্পর্ক করুন 

Contact: 7980327001 / 9804582218

No comments:

Post a Comment

ছত্তিশগড়ি গুঞ্চি বিদ্যা: छत्तीसगढ़ी गुंची विद्या

ছত্তিশগড়ি গুঞ্চি বিদ্যা:  छत्तीसगढ़ी गुंची विद्या এখানে " সুপ্রতিম তন্ত্র শক্তি সাধনা কেন্দ্র " দ্বারা প্রদত্ত ছত্তিশগড়ি গুঞ্চ...