'বৈদিক বিবাহ'
বৈদিক বিবাহ আদতে কী?
বেদ অনুসারে বিবাহ আট প্রকার।
১. ব্রহ্ম— কন্যাকে এখানে সর্বোচ্চ মানা হয়। বধূকে অনেক উপহার
সামগ্রী (পণ নয়, স্ত্রীকে উপহার হিসেব) দিয়ে বিয়ে করতে হয়। সমান বর্ণে হয়। কন্যার পিতা
ছেলের যোগ্যতা যাচাই করতে পারবে। শিক্ষিত হওয়া আবশ্যক।
২. দৈব— বৃহৎ যজ্ঞের দান হিসেবে কন্যাকে দেওয়া হতো। অধিকতর
ক্ষেত্রে এই বিবাহ সেই কন্যাদের দেওয়া হত যাদের বিবাহ হচ্ছে না। এবং তাতে দেবতা বা
ব্রাহ্মণের সঙ্গে দেওয়া হতো।
৩. আর্ষ— কন্যার পিতা কন্যা দিতে বাধ্য,কারণ মূলত ঋষিরাই বিবাহের
আশা করত এবং কিছু গরুর বদলে কন্যা নেওয়া হতো। গরু দান রূপে কন্যার মূল্যই দিতে হত।
বলা যায়। যেমন—ঋষি অগস্ত্য ও লোপামুদ্রার বিবাহ।
৪. প্রজাপত্য— এটাই সর্বাধিক প্রচলিত বিবাহ বিধি। বেদে এরই
প্রচলন দেখা যায়। এতে যোগ্য বর-বধূরই বিবাহ হয়। কোন প্রকার লেনদেন নেই। যজ্ঞ দ্বারা
বিবাহ হবে। প্রজাপতি ব্রহ্মার প্রবর্তিত বিবাহ বিধি। তাই এই ক্ষেত্রে সব কাজে দেব প্রজাপতির
স্মরণ করা হয়। এবং এতে দুজন একে অন্যের ভালো থাকার দায়িত্ব নেয়।
৫. গান্ধর্ব— এতে মালা বদলে প্রকৃতিকে সাক্ষী রেখে বিয়ে হয়।
প্রেমের বিয়েগুলো এভাবেই হতো। যেমন— দুষ্যন্ত ও শকুন্তলা। এর মধ্যে লিভ ইনের সম্পর্ক
খুঁজে পেলে তা খুবই আশ্চর্যজনক।
৬. অসুর— ধনী ব্যক্তির একজন দরিদ্র নারীকে বিবাহ করার বিধি
এটি। এতে কন্যার পরিবারকে অনেক সম্পদ দেওয়া হয়। বিশেষত বর এক্ষেত্রে কোন না কোন ভাবে
স্ত্রী হতে যোগ্যতায় নিচ হয়।
৭. রাক্ষস— কন্যাকে পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তুলে নিয়ে বিবাহ
করা। কিছুটা পালিয়ে বিয়ে করার মতোই। যেমন—শ্রীকৃষ্ণ ও রুক্মিণীর বিবাহ।
৮. পিশাচ— একজন ঘুমন্ত, মানসিক ভাবে ব্যথিত বা মাতাল অবস্থার
কোন নারীকে, মাতাল অবস্থায় বা কোন প্রকারে ধর্ষণ করলে, সমাজের কোন পুরুষ তাকে গ্রহণ
করে না। তখন সেই নারীকে ধর্ষণকর্তার সঙ্গে বিবাহ দেওয়ার বিধিকে বলে পিশাচ বিবাহ।
সুপ্রতিম তন্ত্র শক্তি সাধনা কেন্দ্র
https://supratimtantrashaktisadhanakendra.blogspot.com
দীক্ষার জন্য সম্পর্ক করুন ।
Contact: 7980327001 / 9804582218
No comments:
Post a Comment