HTML Slides

Tuesday, December 14, 2021

কর্ণপিচাশিনী

 

👽👽কর্ণপিচাশিনী👽👽

 

অনেকের বার বার অনুগ্রহে বিস্তর বিবরণ দিলাম ।

 

আমাদের মানুষের আছে অত্যাধিক লোভ-লালসা আর কামনা-বাসনা! সেই ইচ্ছেগুলো-কে চরিতার্থ করার জন্য আমরা সবকিছুই করতে পারি!  একেক সময়ে কারও ক্ষতিও সাধন করে সেসব পেতে চাই জীবনে.....

তখন অনেকেই তার জন্য নানা অতিপ্রাকৃতিক শক্তির সাহায্য নিতে এই তন্ত্র-শাস্ত্রের নিম্নমুখী সাধনায় রত হন!

 

কিন্তু এইসব শক্তি সিদ্ধি পাওয়াটা যেমন তুলনামূলক সহজ কিন্তু এর ক্ষতিকর দিকটা তার চাইতেও ভয়ংকর!

 

তবু মানুষ, এসবে আকৃষ্ট হয়ে পতঙ্গের ন্যায় ছুটিয়া যায়....

পতঙ্গ যেমন বহ্নিশিখা দেখে পাগলের মতন আকৃষ্ট হয়ে বহ্নিশিখার মধ্যে ছুটে গিয়ে ঝাঁপ দেয় ও আগুনে জ্বলে-পুড়ে মরে....

কিছু লোভী মানুষই এমনি এইসব সাধনা করতে গিয়ে সুখের আশায় নিজেই নিজের দুরাবস্থা বা মৃত্যু ডেকে আনে!

 

এই সাধনায় একবার সিদ্ধি-প্রাপ্তি হয়ে গেলে, সেই সাধক ভূত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দেখতে পায়, সবার মনের কথা বুঝতে পারে এবং বলে দিতে পারে!

কর্ণপিচাশিনী সাধনায় সন্তুষ্ট হলে, সাধকসিদ্ধের কানে কারও ভূত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের ঘটনাগুলি র্নিভুল ভাবে  ফিসফিস ও স্পষ্টভাবে বলে! এই সাধক তখন যে কোনো ব্যাক্তির সবকিছু বলে দিয়ে নাম-খ্যাতি অর্জন করে, এবং আগাম রেস, জুয়া ও লটারীর ফলাফল বলে দিতে পারে, তাই এর থেকে প্রচুর অর্থ-ঐশ্চর্য্য লাভ করে!

 

#পিচাশের_প্রকৃতিঃ

তন্ত্রে পিশাচ হল অত্যন্ত নিম্ন শ্রেণীর এক জীব। সাধারণ মনুষ্য সমাজে যা কিছু ঘৃণ্য ও উচ্ছিষ্ট তার উপরেই লালিত পালিত হয় এই পিশাচগণ।

মানুষ ও ভুতের মাঝামাঝি একটি স্তরে এদের অবস্থান। #বৌদ্ধিক শক্তিতে এরা মানুষের থেকে অনেক নিম্ন পর্যায়ের হলেও, অন্যান্য সমস্ত ক্ষেত্রে এরা অসীম শক্তিধর। তাই মন্ত্র বলে এদের একবার বশে আনতে পারলে এদেরকে দিয়ে ক্রীতদাসের মতো সব কাজ করিয়ে নেওয়া যায়। বিভিন্ন দুরূহ অসাধ্য! কাজও সহজেই মানুষ করতে পারে এদের সাহায্যে।

#আবার, হিন্দু শাস্ত্র মতে, পিশাচ হলো অত্যন্ত তমোগুণ সম্পন্ন অপার্থিব স্বত্তা অর্থাৎ সাধারণ কথায় বলতে গেলে এরা মদ, মাংস এবং রক্ত এসব আহারের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী হয়। রুক্ষ্ম- শুষ্ক বনভূমি, পাহাড় পর্বত, মরুভূমি, পরিত্যক্ত দূর্গ বা পোড়ো বাড়ি,নদী-নালা, জনহীন প্রান্তর - এই ধরনের স্থান এদের খুব প্রিয় হয়। এই সব জায়গাতেই প্রধানত পিশাচের বাস থাকে।

এছাড়াও বট, অশথ্ব এবং ক্যাকটাস সহ বিশেষ কয়েকটা গাছের ওপর পিশাচের প্রভাব খুব বেশী থাকে বলে শাস্ত্রে উল্লিখিত আছে। মানুষ ছাড়াও যে কোনো পশুরাও মৃত্যুর পর পিশাচযোনি প্রাপ্ত হতে পারে...!

তবে পিশাচ সিদ্ধ তান্ত্রিক বা সাধক হতে গেলে সাধকের মধ্যেও পিশাচের কিছু লক্ষণ প্রকট হয়! না হলেও হতে হয় 

যথাঃ---

১) সেই সাধক তখন আর মাতৃশক্তির বা দৈবিক যে কোনো সাধনা করতে পারে না!

২) যে সাধক পিশাচ সাধনা করে তার দেহ সম্পূর্ণ কালো কয়লার বর্ণ ধারণ করে। এছাড়া সারাক্ষন নোংরার মধ্যে থাকতে হয়, ক্ষেত্র-বিশেষে গায়ে নিজের মল-মুত্র মাখতে হয়! প্রয়োজনে মল-মূত্র ভক্ষণ করতেও এরা পিছুপা হয় না! অনেক সময় মরার বা শবের মাংস খায়, মরার মাথা কেটে নিয়ে গিয়ে নানা ক্রিয়া করে। এইসব অতি নিম্ন গুন তাঁর মধ্যে প্রকাশ পায়!

৩) সাধক যদি বিবাহিত হয় তবে এই কর্ণ-পিচাশিনীর সাধনার পূর্বে প্রায় একমাস ব্রম্ভচর্য পালন করতে হয়! সাধনাকালেও সাধক কোনো মহিলা বা প্রেমিকার সাথে রিলেশনও রাখতে পারবে না! এমন কি নিজের মোবাইলে মহিলাদের নাম্বারও ডিলিট করে দিতে হয়! নাইলে পিচাশিনী এদের ক্ষতিসাধন বা মেরেও ফেলতে পারে!

৪) সিদ্ধি পেয়ে এদের বশ করা গেলেও এদের কাজে লাগানো মানে আগুন নিয়ে খেলা করা। পিশাচসিদ্ধ হওয়ার পর সাধক যদি সামান্য অনিয়ম করে বা অসাবধানতাবশত নিজের দেহ বন্ধন(বিশেষভাবে মন্ত্রপুতঃকরা)  ভুলে যান। তবে ওই পিশাচের হাতেই তাকে মরতে হয়।

৫) কর্ণ পিশাচিনী হলো পিশাচদের এক বিশেষ ভাগ। যাদের সাধনা করে বশ করতে পারলে, সারাক্ষন সাধকের কানে কানে ফিসফিস করে কথা বলতেই থাকে। সাধক সহজেই যে কোনো আসন্ন বিপদ, ভবিষ্যতে কি ঘটতে চলেছে, কোন কাজের কি পরিণাম হতে চলেছে, তা জানতে পেরে যায়। তবে এদের নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই কষ্টসাধ্য। এরা কানে কানে কথা বলা শুরু করলে #আরথামতেচায়_না!

তন্ত্র অনুযায়ী এই বিদ্যা-সাধনায় যৌনতার কিছুটা মিলমিশ আছে! (কিন্তু উচ্চ-মার্গের তন্ত্র এটি সমর্থন করে না)!

সাধক, এই পিশাচিনীকে সাধনায় সিদ্ধ করতে পারলে, পিশাচিনী সাধক-কে জিজ্ঞাসা করে, সাধক তাকে কি রূপে চাই.....#ভার্যা না #প্রেয়সী..?

এবার সাধক যে রূপে নেবে,  পিশাচিনী সেই রূপেই তাঁর কাছে ধরা দেবে, যেমন... ভার্যারূপে এলে বউ বা স্ত্রীর মতনই আদর-যত্ন, সেবা করবে...কিন্তু সেই সাধকের প্রকৃত ভার্যা বা স্ত্রী থাকলে,  তাঁকে পিশাচিনী অবশ্যই বেঁচে থাকতে দেবেনা! মেরে ফেলবেই ফেলবে...

তেমনি করে প্রেয়সী বা প্রণয়নী রূপে চাইলে, অসম্ভব প্রেমভালবাসা দেবে, রতি সুখ দেবে, কিন্তু সেই সাধকের সহিত অন্য-কোনো মহিলার সম্পর্ক তো দুর! কথাবার্তাও মেনে নেবে না! নচেৎ সেই মহিলার বেঘোরে প্রাণ নিয়ে নেবে....

আমার অভিজ্ঞতা অনুসারে, বলছি এই সিদ্ধিগুলি অবিশ্বাস্য সত্য।!এখনে একটি কর্ণ পিশাচিনী মন্ত্র সাধন দিচ্ছি, যা নীচে সামান্য বর্ণিত করছি...... সাধারনতঃ কোনো ফাঁকা জঙ্গলে/মাঠে, বটবৃক্ষ তলা, নাহলে অশথ্ব গাছতলা হলে উওম, নদী-জলাশয়ের পাড়.....

এসব না পেলে আপনি কোথাও না গিয়ে একাকি নিরালা জায়গায় মানে নিজগৃহে সকলের চাইতে আলাদা দোতলার কোনো কক্ষে চাইলে করতে পারেন তবে সেখানে আপনি ব্যাতীত অন্য কোনো প্রানী আসবেনা! 

গৃহবন্ধ করে গভীর-রাতে নগ্ন/ দীগম্বরা-বস্থায় এই সাধনা শুরু করতে হয়,  কেবল তিনদিন করতে হবে যে কোনো মাসের কৃষ্ণপক্ষে ঠিক অমাবষ্যার দুদিন আগে এবং ঠিক তিনদিনের দিন অমাবষ্যার দিন মন্ত্র সিদ্ধি হয়!

তবে গুরুআজ্ঞার অত্যন্ত প্রয়োজন! বিনা গুরু এসব সাধনা কখনও সিদ্ধ হয় না! পাওয়ায় যায় না!!

প্রথমে একটি দিয়া জ্বালাতে হয়, দিয়া খাঁটি ঘি বা অন্য কোন তেল হতে পারে, যা প্রদীপকে আলোকিত করতে ব্যবহৃত হয়! তারপরে সাধক-কে তার আঙ্গুল গুলিকে তেলে ডুবিয়ে রাখতে হবে এবং এর কিছুটা তার পায়ের ত্বকে লাগাতে হবে। আর কিছু বিধি - উপাচার আছে, যা এখানে সব বলবো না!--- যতই হোউক গুরুমুখী বিদ্যে..🙂 এরপরে একমনে এই মন্ত্র নির্দিষ্ট দিনানু-যায়ী জপ করা উচিত.....

মোট মন্ত্রের সংখ্যা ১০০,০০০ (একলক্ষ) এবং সাধক-কে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার জপ করে যে কোনও ধরণের মালা ব্যবহার করা যেতে পারে। কয়েক দিনের মধ্যে মন্ত্র সাধন করা যায়!

এমনিতে তন্ত্রনুয়ায়ী বিধান আছে যে কোনো নদী তটে বা শশ্মানে যেখানে নিরালা-নীরবতা বিরাজ করে সেখানে গুরু-অনুমতী নিয়ে ২১ দিনের সাধনা করতে হয় পুরো নগ্ন অবস্থায়! এখানে বলে রাখি পিচাশিনী সাধনায় মন্ত্রজপ করতে হয়!

#কালো_আসনে বসে সাধনা করতে হয়! তখন সাধন কালে নানারকম ভয়ংকর সব অনুভূতির ঘটনা ঘটে! সাধকের সাহস-একাগ্রতার পরীক্ষা নেওয়া হয়! কিন্তু ঐ সময় যদি সাধক ভয় পেয়ে মন্ত্রজপ ছেড়ে আসন ছেড়ে উঠে যায় বা মাঝপথে সাধনা ছেড়ে দেয় তবে সেই সাধক-কে মরতে হবেই! তাই গুরু নির্দেশ থাকে যত যাই কিছু ঘটুক সাধক বা চর্চাকারী আসন ছেড়ে ওঠা যাবে না! সে মল-মুত্র ত্যাগ হউক না কেন! ওখানেই তা সারতে হবে!  

যদি সফল হন, তবে কর্ণ পিশাচিনী  সাধকের কাছে আসবে তখন সেই স্থান আঁশটে ও দূর্গন্ধে ভরে যাবে এবং একজন শ্যামাঙ্গি মধ্যম গড়নার ২০ থেকে ২২ বছরের যুবতী মেয়ের বেশে,  এসে সাধককে প্রলুব্ধ করবে তুই আমকে কেন স্মরণ করেছিস! অবশ্যই সাধককে প্রণয়ী/ভার্যা কখনও মাতৃরূপে সেই পিচাশিনীকে গ্রহন করতে হয়! কারন এই সাধনায় পিচাশিনীকে যে রূপেই নেওয়ার অপশন বা সূযোগ থাকলেও! সাধকের ব্যাক্তিগত জীবনে সেই আসল সম্পর্কে মহিলাটিকে পিচাশিনী বেঁচে থাকতে দেয় না! মেরে দেবে..৷৷

তারপর সাধক তার অভিলাস ব্যাক্ত করে যে রূপে গ্রহন করতে চাইবে, পিচাশিনী সাধককে তাতেই আশ্বস্থ করে বলবে আমি তোর প্রশ্নের সব জবাব দেবো আর সর্বক্ষন সাথে থাকবো এবং তোর ইচ্ছানুযায়ী তুই অনেক ধনসম্পত্তি লাভ করবি....

সাধক যে কোনো মানুষের #ভূত #বর্তমান একেবারে নির্ভূল ভাবে বলার ক্ষমতা রাখবে, #ভবিষ্যৎ সমন্ধে সামান্য বলার ক্ষমতা জন্মে....

কিন্ত পিচাশিনী প্রতি ৭/১০ দিন পরে সেই সাধকের নিকট দেহধারী হয়ে আসবে----- তখন সেই পিচাশিনীকে কিন্তু রমন বা সঙ্গম-সুখ দিতেই হবে!

না হলে সাক্ষাৎ মৃত্যু!

আসলে কর্ণপিচাশিনী খুব কামুক প্রকৃতির হয়! আর সাধকের সাথে থাকতে থাকতে এর কাম চাহিদা ক্রমশঃ বাড়তে থাকে, এখানে সাধক যদি ভার্যা রূপে গ্রহন করে থাকে তবে সাধক এর ইচ্ছে পূরণ না করে উপায় নেই! নাহলে একেবারে যমের দুয়ারে.....

প্রথমে সাধক ঠিকভাবে সাধনা শুরু করলেও কোনো কারনে পিচাশিনী তুষ্ট নাও হতে পারে! তবে একেক জন সাধকের সাধনার অভিজ্ঞতা পৃথক হতে পারে।

তাই সাধকগণ দয়া করে মনে রাখবেন, সাধন প্রক্রিয়ায় কেবল সাফল্য বা ব্যর্থতা দেওয়া সবকিছু বিধির হাতে!

তবে এটুকু বলবই এই সাধনা কেহ কখনও গুরুর আজ্ঞা বিনে করতে যাবেন না! ইহা বড়ই একপ্রকার উগ্র-তামসিক সাধনা!

...এই সাধনায় সিদ্ধি লাভ করে পিচাশিনী যতই আপনাকে সব সফলতা, টাকা-পয়সা-সম্পদ দিক না কেন?  আপনার সাথে এ সর্বদা এঁটুলির মতন লেগে থাকবে, আপনি না চাইলেও আপনার ঘাড়ের পাশে অদৃশ্যভাবে বসে থাকবে আর কানে!কানে অনবরত ফিসফিস করে কথা বলে যাবে! আপনার নিজের স্বাচ্ছন্দ-স্বাধীনতা নিয়ে একাকী নিজের মতন করে কখনই বাঁচতে দেবে না! আপনার জিনা হারাম করে দেবে.....

শেষে আপনার জীবনই আপনার কাছে দূর্বিষহ হয়ে যাবে, আপনি তখন একে ছাড়তে চাইবেন এর থেকে নিষ্কৃতি পেতে চাইবেন!  কিন্তু অত সহজ নয় এর হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়া! একমাত্র কোনো উচ্চকোটির মহাত্ম্যা বা অঘোরী-সাধক হলেই বিভিন্ন ক্রিয়া-সাধনের দ্বারা নিষ্কৃতি দিতে পারে.....

বিভিন্ন ক্রিয়া-আচারের মাধ্যমে আপনার কাছ হতে এই পিচাশিনীকে বিদায় করতে পারে....কিন্তু সে ব্যাপার খুবই বিরল!!

এই ভয়ঙ্কর সাধনার পরিবর্তে আপনি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বলতে চাওয়ার সম্পূর্ন ক্ষমতা অর্জন করতে চাইলে কালী মায়ের সাধনা করুন একদম স্বাত্তিক ভাবে ও মায়ের-কৃপা লাভ করুন....😊



সুপ্রতিম তন্ত্র শক্তি সাধনা কেন্দ্র

https://supratimtantrashaktisadhanakendra.blogspot.com

দীক্ষার জন্য সম্পর্ক করুন 

Contact: 7980327001 / 9804582218




No comments:

Post a Comment

ছত্তিশগড়ি গুঞ্চি বিদ্যা: छत्तीसगढ़ी गुंची विद्या

ছত্তিশগড়ি গুঞ্চি বিদ্যা:  छत्तीसगढ़ी गुंची विद्या এখানে " সুপ্রতিম তন্ত্র শক্তি সাধনা কেন্দ্র " দ্বারা প্রদত্ত ছত্তিশগড়ি গুঞ্চ...