জপ
*শাস্ত্রে আছে
" জপাত: সিদ্ধি " - অর্থাৎ জপ দ্বারা সিদ্ধিলাভ হয়। ভগবানের কোনো নাম মন্ত্র
বা গুরু মন্ত্র অনবরত বিভিন্ন ভাবে বা বিভিন্ন পদ্ধতিতে করার নাম জপ।
*শাস্ত্রানুসারে জপ
১১ প্রকারের পদ্ধতি দ্বারা করা যায়।
১.কায়িক জপ
২. বাচিক জপ
৩. উপাংশু জপ
৪. প্রাণীক জপ
৫. হার্দিক জপ
৬. মানসিক জপ
৭. ক্রিয়া জপ
৮. সুষুম্না জপ
৯. চক্র জপ
১০. অজপা জপ
১১. পশান্তি জপ
*প্রতিটি জপ
পদ্ধতি পরস্পরের থেকে উন্নত। যেমন - কায়িক থেকে বাচিক , আবার বাচিক থেকে উপাংশু উন্নত
- এই ভাবে প্রতিটি জপ পদ্ধতি পরস্পরের থেকে উন্নত। পশান্তি জপ পদ্ধতি পর্যন্ত একবার
করতে পারলে জপ সাধনায় পূর্ণ সিদ্ধিলাভ হয় এবং শাস্ত্রের " জপাত: সিদ্ধি
" কথাটি পূর্ণত্ব প্রাপ্ত হয়।
১. কায়িক জপ :
কায়িক জপ শব্দের অর্থ হলো - শারীরিক পরিশ্রম এর দ্বারা যে জপ
করা হয় তাকে কায়িক জপ বলে। যেমন:- খোল-করতাল নিয়ে নাচতে নাচতে বা হেলে দুলে যে ভগবানের
অনবরত নাম করা রুপি জপ করাকে কায়িক জপ বলে।
২. বাচিক জপ :
বাচিক জপ শব্দের অর্থ হলো- এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে বসে অনবরত
উচ্চারণ করে যে জপ করা হয় তাকে বাচিক জপ বলে।
৩. উপাংশু_জপ :
উপাংশু জপ শব্দের অর্থ হলো- এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে শুধু
নিজে শুনতে পাবে কিন্তু পাশে বসে থাকলেও কেও শুনতে পাবে না , এই রকম ভাবে অনবরত উচ্চারণ
করে যে জপ করা হয় তাকে উপাংশু জপ বলে।
৪. প্রাণীক_জপ:
প্রাণীক জপ শব্দের অর্থ হলো - শাস্ত্রে কোনো কোনো জায়গায় শ্বাস
কে প্রাণ বলা হয়েছে। এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে জিভকে পূর্ণ রূপে স্থির রেখে শুধু শ্বাস-
প্রশ্বাস এর দ্বারা জপ করাকে প্রাণীক জপ বলে।
৫. হার্দিক_জপ:
হার্দিক জপ শব্দের অর্থ হলো - এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে জিভকে
পূর্ণ রূপে স্থির রেখে শুধু , নিজের হৃদ-স্পন্দন শুনে ( কোনো প্রকারের যন্ত্রের সাহায্য
না নিয়ে ), সেই নিজের হৃদ-স্পন্দন এর গতিতে যে জপ করা হয় তাকে হার্দিক জপ বলে।
৬. মানসিক_জপ :
মানসিক জপ শব্দের অর্থ হলো- এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে শরীর
ও জিভকে পূর্ণ রূপে স্থির রেখে শুধু নিজের স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে যে গতিমান মন ( কোনো
প্রকারের যন্ত্রের সাহায্য না নিয়ে ) -সেই মনের গতির সংগে জপ করাকে মানসিক জপ বলে ।
৭. ক্রিয়া_জপ :
ক্রিয়া জপ শব্দের অর্থ হলো - এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে জিভকে
কপালকুহরে পূর্ণ রূপে স্থির রেখে গুরুমুখী বিদ্যা রুপি ক্রিয়া এর দ্বারা জপ করাকে ক্রিয়া
জপ বলে।
৮. সুষুম্না_জপ :
সুষুম্না জপ শব্দের অর্থ হলো - এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে জিভকে
কপালকুহরে পূর্ণ রূপে স্থির রেখে গুরুমুখী বিদ্যা রুপি ক্রিয়া এর দ্বারা জপ করতে করতে
সুষুম্নাতে প্রবেশ করে তারপর জপ করাকে সুষুম্না জপ বলে।
৯. চক্র_জপ :
চক্র জপ শব্দের অর্থ হলো - এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে জিভকে
রাজিকাতে পূর্ণ রূপে স্থির রেখে গুরুমুখী বিদয়া রুপি ক্রিয়া এর দ্বারা জপ করতে করতে
সুষুম্নাতে প্রবেশ করে তারপর সুষুম্নাতে প্রবেশ অবস্থায় থেকে প্রতিটি চক্রে জপ করার
নাম চক্র জপ।
১০. অজপা_জপ :
অজপা জপ শব্দের অর্থ হলো - এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে জিভকে
রাজিকাতে পূর্ণ রূপে স্থির রেখে গুরুমুখী বিদ্যা রুপি ক্রিয়া এর দ্বারা জপ করতে করতে
সুষুম্নাতে প্রবেশ করে তারপর সুষুম্নাতে প্রবেশ অবস্থায় থেকে প্রতিটি চক্রে জপ করতে
করতে কেবলি কুম্ভক এর দ্বারা অনাহত দিব্য ধ্বনির প্রকাশ হয় গুরুমন্ত্র আপনা আপনি সেই
অনাহত দিব্য ধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে জপ হতে থাকে -তাকেই অজপা জপ বলে।
১১. পশান্তি_জপ :
পশান্তি জপ শব্দের অর্থ হলো - এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে জিভকে
রাজিকাতে পূর্ণ রূপে স্থির রেখে গুরুমুখী বিদ্যা রূপী ক্রিয়া এর দ্বারা জপ করতে করতে
সুষুম্নাতে প্রবেশ করে তারপর সুষুম্নাতে প্রবেশ অবস্থায় থেকে প্রতিটি চক্রে জপ করতে
করতে কেবলই কুম্ভক এর দ্বারা অনাহত দিব্য ধ্বনির প্রকাশ হয় গুরুমন্ত্র আপনা আপনি সেই
অনাহত দিব্য ধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে অজপা জপ এর মন্ত্র ধ্বনি শুনতে শুনতে সাধক সমাধি অবস্থায়
উপনীত হয়। আর তখনি পশান্তি দিব্য ধ্বনির মধ্যে ব্রহ্ম জ্যোতির প্রকাশ হয় - আর সেই ব্রহ্ম
জ্যোতির মধ্যে মন্ত্রের অর্থ- গায়েত্রীর দর্শন হয় আর সেই সঙ্গে সেই গুরুমন্ত্র রূপী
ইষ্টদেব এর সাক্ষাৎ দর্শন হয়ে সাধক পূর্ণ মন্ত্র সিদ্ধি লাভ করে - একেই শাস্ত্রে পশান্তি
জপ বলেছে, এটি সিদ্ধ হলে বলা হয় যে- জপের দ্বারা পূর্ণ সিদ্ধিলাভ -এটিই " জপাত:
সিদ্ধি " অবস্থা।
* জপধ্যান ও দীক্ষার
প্রসঙ্গে শিষ্যের শুভ সংস্কার না থাকলে গুরুর শত চেষ্টা সত্ত্বেও তার অন্তর্নিহিত শক্তি
জাগরিত ও কার্যক্ষম হয় না। সেই শুভ সংস্কারের সাথে প্রয়ােজন হয় শিষ্যের স্বতঃপ্রবৃত্ত
সহযােগিতা।
জপের জন্য সাধারণত বীজমন্ত্রই প্রশস্ত। অন্যান্য দীর্ঘতর মন্ত্র
যেমন মূলমন্ত্র, গায়ত্রী মন্ত্র ইত্যাদি জপেরও বিধি আছে। তবে সেগুলি পরিশেষে বীজেই
গিয়ে পর্যবসিত হয়; কারণ সত্তার স্পন্দন ক্রমশ সূক্ষ্ম হতে সূক্ষ্মতর আধারকে আশ্রয় করতে
চায়।
বিরাট বটগাছের শাখাপ্রশাখা পল্লবাদি ক্রমশ গুটিয়ে বটবীজে রূপান্তরিত
হয় - যার মধ্যে গোটা বটগাছটি সূক্ষ্মভাবে বিদ্যমান। পাতা বা শাখার মধ্যে বৃক্ষের অংশবিশেষকে
বড় জোর লাভ করা যায়, কিন্তু বীজের মধ্যে বৃক্ষটিকে অখন্ড অথচ হ্রস্বতমরূপে ধরা যায়।
তাই বীজ বা বীজমন্ত্রের এত মাহাত্ম্য বা মর্যাদা। এটি অভিব্যক্তির highly
condensed form - সর্ব্বাধিক ঘনীভূত রূপ। যথাযথ সাধনা করলে ঐ বীজমাত্রই ক্রমশঃ ধীরে
ধীরে বিস্তার লাভ করে নানা দীর্ঘতর মন্ত্রে, স্তোত্রে এবং পরিশেষে তা ইষ্টের মূর্তি
পরিগ্রহ করে।
বীজমন্ত্র ক্রমশ প্রণব মন্ত্রে গিয়ে মিলিত হন; যার জন্য প্রণব
মন্ত্রকে অখন্ড বা মহামিলনের মন্ত্র বলা হয়। ঐং, শ্রীং, রাং, হুং, ক্লীং ইত্যাদি বীজমন্ত্র
অব্যক্তে লীন হবার পূর্বক্ষণে ওঙ্কারমন্ত্রে গিয়ে পর্যবসিত হন। ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলি ক্রমশ
বিলীন হয়ে গিয়ে অ, উ, ম - স্বরূপিনী নাদধ্বনিই সমুত্থিত হতে থাকে। অভিব্যক্তির প্রথম
ফুট্ হলো এই ওঙ্কার মন্ত্র - যা সর্ব্ববীজমন্ত্র।
দ্বিতীয় পর্যায়ে আমরা বিবিধ দেবদেবীর খন্ডবীজগুলি লাভ করি।
একটি বীজকে (যেমন ছোলার বীজ) ধীরে ধীরে যথানিয়মে পরিচর্য্যা করলে সে যেমন অঙ্কুরিত,
পল্লবিত, পুষ্পিত এবং ফল-সমন্বিত হয়, তেমনি বীজমন্ত্রের যথাযথ সাধনা আমাদিগকে সংশ্লিষ্ট
ইষ্টদেবের সাক্ষাৎকার ঘটায়, তাঁর কৃপালাভ হয়। জপসাধনা মূলত এই বীজমন্ত্রকেই আশ্রয় করে
এগিয়ে চলে। কথাটি এই, বীজটি সম্প্রসারিত হতে হতে এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের রূপধারণ করেছে,
আবার এই বিশ্বব্রহ্মান্ড গোটাতে গোটাতে শুধুমাত্র অণুপরিমাণ বীজের আকার ধারণ করে।
বীজমন্ত্র হল এক একটি তত্ত্ব বা দেবভাবের সংগুপ্ত প্রতীক। একাক্ষর
ধ্বনির মধ্য দিয়ে প্রতীক বা symbol-এর আকারে এই বীজমন্ত্র সাধারণত অভিব্যক্ত। উচ্চতর
গণিতে যেমন বিবিধ ভাব-সংকেত বোঝাতে গ্রীক বর্ণমালার সিগমা, ল্যাম্বডা, পাই ইত্যাদি
প্রতীক ব্যবহৃত হয়, সাধনক্ষেত্রেও বীজমন্ত্রের ব্যবহার অনেকটা সেরকম - অতি সংক্ষিপ্ত
অথচ ভাবগর্ভ। দেবতা বা তত্ত্ব অনুসারে কয়েকটি বীজ এখানে দৃষ্টান্তরূপে উল্লেখিত হল
-
১. ব্রহ্মবীজ - ওঁ
২. মায়াবীজ - হ্রীং
৩. শক্তিবীজ বা কালীবীজ - ক্রীং
৪. কামবীজ বা কৃষ্ণবীজ - ক্লীং
৫. শ্রীবীজ বা রমা বীজ - শ্রীং
৬. বাগবীজ - ঐং
৭. ইন্দ্রবীজ বা পৃথিবী বীজ - লং
৮. বায়ুবীজ - যং
৯.বহ্নিবীজ - রং
১০. চন্দ্রবীজ - ঠং
১১. বরুণ বীজ - বং
১২. দুর্গাবীজ - দুং
১৩. গণেশবীজ - গং
১৪.কূর্চ্চবীজ - হূং
১৫.বিম্ববীজ - ঠিং
১৬. রামবীজ - রাং
১৭. তার্ত্তীয় বীজ - হেসৌঃ
১৮. নৃসিংহবীজ - ক্ষ্রৌং
১৯. শিব বীজ - হৌং
২০.স্ত্রীবীজ - স্ত্রীং
২১. আকাশবীজ - হং
২২. সূর্য্যবীজ - হ্রাং হ্রীং সঃ
২৩. সীতাবীজ - সাং
২৪. শ্রীকন্ঠবীজ - অঃ
২৫. বর্ম্মবীজ - হুং
২৬. পরাবীজ - সৌঃ
২৭. অঙ্কুশবীজ - ক্রোং
২৮. ব্রহ্মাবীজ - কং
২৯. হংসবীজ - হংসঃ
৩০. ত্রিপুরাবালাবীজ - ঐং ক্লীং সৌঃ
সুপ্রতিম তন্ত্র শক্তি সাধনা কেন্দ্র
https://supratimtantrashaktisadhanakendra.blogspot.com
দীক্ষার জন্য সম্পর্ক করুন ।
Contact: 7980327001 / 9804582218
No comments:
Post a Comment