অশৌচ
আমাদের ধর্মে যদি কোনো কারোর মৃত্যু হয়ে যায় তখন সেই সময় সবথেকে
বড় কথা উঠে দাঁড়ায় অশৌচের বিষয় । এই সময় পূজা পাঠ সাধনা ইত্যাদি করা যাবে কিনা বা কতদিন
পরে তা করা যাবে ইত্যাদি ইত্যাদি ।
তো আজ এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছি ।
পরিবারের কোন ব্যক্তির মৃত্যু হলে কাল অশৌচ লাগে ।
তাই পুরো ১৩ দিন পর্যন্ত কোনো ধরণের পূজা পাঠ করা যাবে না ।
পরিবারের সদস্য যদি বাইরে হাজার কিলোমিটার দুরেও থাকে তাও পরিবারের
কারোর মৃত্যু হলে ১৩ দিন পর্যন্ত সব ধরণের পূজা পাঠ বন্ধ থাকবে ।
পরিবারের যদি কারোর যদি বাচ্চা জন্ম হয় তাহলে জননা অশৌচ লাগে
।
এটা ততদিন পর্যন্ত পালন করা হয় যতদিন না অবধি সেই বাচ্চার নামকরণ
না করা হয় বা ব্রাহ্মণ ভোজন না করানো হয় ।
যদি বাচ্চার মূল এসে যায় মূল শান্তি না হয়, নাম করণ না হয়ে
যায় ততদিন অশৌচ পালন করা হয় ।
ততদিন পূজা পাঠ বন্ধ রাখা হয় ।
মেয়ের জন্য মাতা-পিতার কেবল ১দিনের অশৌচ লাগে ।
গর্ভপাত হলে কেবল ১দিনের অশৌচ লাগে ।
বাচ্চার জন্মের কিছুদিনের মধ্যে বাচ্চার মৃত্যু হয়ে গেলে বাচ্চা
যত মাসের হয় তত দিনের অশৌচ লাগে ।
১ বছরের বাচ্চার মৃত্যু হলে পুরো ১৩ দিনের অশৌচ মানা হয় ।
অশৌচ কালে কোনো সাধনা শুরু করতে নেই ।
যদি আগে থেকেই কোনো সাধনা করা হয়ে থাকে সাধনার ক্রিয়াকর্ম চলতে
থাকে তাহলে সেটা স্বাভাবিক রাখা যেতে পারে এতে কোনো সমস্যা নেই । যদি কোনো বিশেষ কারোর
মৃত্যু না হয় তাহলে সাধনা চালু রাখা যেতে পারে ।
আগে থেকেই করা সাধনা বন্ধ না করলে কোনো সমস্যা নেই ।
উগ্র সাধনা করলে কখনই কোনো কারণে মাঝপথে বন্ধ করা যাবে না ।
এতে নিজেরই প্রাণ নাশের আশঙ্কা থাকে ।
পরিবারের মৃত ব্যক্তির ১৩ দিনের অশৌচ, বাচ্চার মৃত্যুর অশৌচ,
গর্ভপাত ইত্যাদি অশৌচ মিটে গেলে পুনরায় পূজা পাঠ সাধনা ইত্যাদি করা যেতে পারে । মন্দিরে
পুজা পাঠও দেওয়া যেতে পারে ।
স্ত্রী সাধিকার মাসিক ধর্ম চলাকালীন সাধনা বন্ধ রাখতে হবে ।
রজঃস্রাবের দিন শেষ হলে সাধনা নিয়মিত করা যাবে ।
এই সমস্ত অশৌচের দিন গুলোতে সাধক সাধিকা গুরুমন্ত্রের মানসিক
জপ করে যেতে পারবেন ।
মানসিক জপ কখনো খন্ডিত এবং অপবিত্র হয় না ।
এইসব বিষয় সাধক সাধিকা বা সাধারণের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই পালন
করা উচিত ।
সুপ্রতিম তন্ত্র শক্তি সাধনা কেন্দ্র
https://supratimtantrashaktisadhanakendra.blogspot.com
Contact: 7980327001 / 9804582218
No comments:
Post a Comment